বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় ৬ আসামি, আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় ৬ আসামি, আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। গত ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার আসামিদের ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে রায় পড়া শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ৯টার দিকে আসামিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর কিছু সময় পড় রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।


বিজ্ঞাপন


ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনালের আশপাশ এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন তারা।

ট্রাইব্যুনালে হাজির করা ছয় আসামি হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।

বহুল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ২০২৫ সালের ২৪ জুন। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ জুন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। ওই দিনই অভিযোগটি আমলে নিয়ে ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।


বিজ্ঞাপন


ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর শুনানি করেন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর ৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় ২৭ আগস্ট। এর পরদিন থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মুকুল হোসেন।

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা সাক্ষ্যগ্রহণের সমাপ্তি ঘটে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। এ সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনসহ মোট ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে। তাদের মধ্যে অন্যতম সাক্ষী হাসনাত আবদুল্লাহ। যিনি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। তার সাক্ষ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো স্পষ্ট করতে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০ জানুয়ারি শুরু হয় যুক্তিতর্ক, যা চলে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। ওই দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। পরে ৫ মার্চ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ঘোষণা হচ্ছে আলোচিত এ মামলার রায়।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর