বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

ওসমান হাদি হত্যা: ফয়সাল–আলমগীর ১১ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ওসমান হাদি হত্যা: ফয়সাল–আলমগীর ১১ দিনের রিমান্ডে

বহুল আলোচিত ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে ১১ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিল্লির পাতিয়ালা হাউসের এনআইএর বিশেষ আদালতে তাঁদের তোলা হলে সংস্থাটি আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে। পরে বিচারক এ আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ২৩ মার্চ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লিতে নিয়ে যায় এনআইএ।

এদিকে আগামী ২ এপ্রিল তাঁদের কলকাতার বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজির করার কথা ছিল। তবে সূত্র জানায়, দিল্লি থেকেই ভার্চ্যুয়ালি কলকাতার আদালতে হাজির করা হতে পারে।

গত ২২ মার্চ এনআইএর পক্ষ থেকে কলকাতার বিধাননগর আদালতে দুই অভিযুক্তকে জেরা করার আবেদন জানানো হয়। বিচারক প্রথমে এতে সম্মতি দেন।

তবে পরদিন সকালে এনআইএ নতুন আবেদন দিয়ে জানায়, দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা নিয়ে তাদের আশঙ্কা রয়েছে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় না সংস্থাটি। এরপর বিচারক তাঁদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন।

২২ মার্চ বিধাননগর আদালতের বিচারক নিশান মজুমদার ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন। সেদিনই তাঁদের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ২৩ মার্চ দিল্লিতে নেওয়া হয়।

দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনলফুল অ্যাক্টিভিটিস (প্রিভেনশন) অ্যাক্টের ১৬ ও ১৮ ধারায় মামলা হয়েছে। এসব ধারায় সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা, সহায়তা বা প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে কমপক্ষে পাঁচ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

তবে এ মামলা কেন করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতে নাশকতার কোনো পরিকল্পনা করেছিলেন কি না—সে বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা দেওয়া হয়। কিন্তু এ দুই অভিযুক্তের ক্ষেত্রে তা হয়নি।

গত রোববার আদালত প্রাঙ্গণে ফয়সাল দাবি করেন, তিনি হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত নন। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে গুলি করার কোনো প্রমাণ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন বলেও জানান। যদিও সিসিটিভিতে তাঁকে দেখা গেছে—এ কথা তিনি স্বীকার করেন। তবে কেন ভারতে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি।

গত ৭ মার্চ উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড দেওয়া হয়। ২২ মার্চ রিমান্ড শেষে তাঁদের বিধাননগর আদালতে নেওয়া হয়। পরদিন এনআইএর আবেদনে দিল্লিতে নেওয়ার অনুমতি মেলে। আর বৃহস্পতিবার দিল্লির আদালতে হাজির করা হলে ১১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

এদিকে একই মামলায় অন্য অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে ১৪ দিনের জেলহেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁকে আগামী ৩ এপ্রিল আবার আদালতে হাজির করা হবে।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, ওসমান হাদি হত্যা মামলায় জড়িত তিন অভিযুক্তকে ঘিরে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। ফলে তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরার সম্ভাবনা আপাতত কম বলে মনে করা হচ্ছে।

এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর