আসামিকে জামিন দেওয়ার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষ দাবির যে অভিযোগ উঠেছে, সেটির অভ্যন্তরীণ তদন্ত হবে বলে জানালেন ট্রাইব্যুনালের বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ওই অভিযোগের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন চিফ প্রসিকিউটর।
বিজ্ঞাপন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি চট্টগ্রাম–৬ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। মামলায় তাকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের কাছে সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
হোয়াটসঅ্যাপে এ সংক্রান্ত কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানার পর তাকে মামলাটি থেকে সরিয়ে দেন ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তবে তার বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, অন্যান্য দায়িত্ব থেকেও তাকে সরানো হয়নি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৯ মার্চ) এক প্রজ্ঞাপনে সাইমুমের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে প্রসিকিউটর পদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
সাবেক এই প্রসিকিউটরের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি খবরটি তার বাসায় বসে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে প্রসিকিউটরদের বলেন, তারা যেন সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিত থাকেন। এ বিষয়টি কী, কেন হলো—এই ব্যাপারগুলো তিনি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছেন।
সাইমুমের বিষয়ে যে সংবাদ বেরিয়েছে, তাতে ব্যথিত বলে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আজকে যে নিউজটা, যদি কোনো ফরমাল অ্যালিগেশন (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) আমার কাছে আসে, আইনানুগভাবে আমার যতটুকু ক্ষমতা আছে, আমি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। আমার প্রসিকিউশনের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে একটা অভ্যন্তরীণ তদন্ত করব।’
এছাড়া ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন (২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর) হওয়ার পর সব বিষয়ে অভ্যন্তরীণ একটি কমিটি করে তদন্ত করে দেখবেন বলেও জানান আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোনো অনিয়ম পেলে, সে বিষয়ে তিনি তার কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেবেন।
এএইচ

