সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের (ফ্রিজ) আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ এই আদেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আক্তারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
আদালতের পর্যবেক্ষণে যা বলা হয়েছে
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত অপরাধলব্ধ অর্থ তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনার নামে রেখেছেন। লুৎফুল তাহমিনা ১৫ কোটি ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখল করছেন।
অন্যদিকে, আসাদুজ্জামান খান কামালের নিজের এবং তার আংশিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা একাধিক ব্যাংক হিসাবে ৪৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই অর্থ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি ধারা
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর একটি যৌথ কোম্পানিতে গত বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রত্যেকের ১০ লাখ টাকা করে বিনিয়োগ ছিল। অবৈধ অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
কেন এই ক্রোকের আদেশ?
দুদক আদালতকে জানায়, আসামিরা তাদের অবৈধ অর্থ ও সম্পদ হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। যদি এই সম্পদ এখনই ক্রোক বা অবরুদ্ধ করা না হয়, তবে মামলার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে এবং বিচার শেষে রাষ্ট্রীয় অনুকূলে এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না। দুদকের এই যুক্তি আমলে নিয়ে আদালত সম্পদ ক্রোকের চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক এই প্রভাবশালী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে তার বিদেশযাত্রায়ও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

