সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নয়: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৩ এএম

শেয়ার করুন:

সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নয়: হাইকোর্ট

কোনো ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত ওই ব্যক্তি কোনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না—এমন বিধান বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দিয়েছেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ। সম্প্রতি এ রায় প্রকাশিত হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বহু বিবাহ সংক্রান্ত ৬ ধারায় বলা হয়েছে—

১) কোনো ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকিতে সে সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত কোনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইতে পারিবে না বা ঐরূপ অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো বিবাহ ১৯৭৪ সনের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেকরণ) আইনের অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হইবে না।

২) ১নং উপধারা অনুযায়ী অনুমতির ও দরখাস্ত নির্ধারিত ফিস-সহ চেয়ারম্যানের নিকট নির্দিষ্ট দফতরে দাখিল করিতে হইবে ও উহাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের সম্মতি লওয়া হইয়াছে কিনা উহার উল্লেখ থাকিবে। 


বিজ্ঞাপন


৩) ২নং উপধারা অনুযায়ী দরখাস্ত গ্রহণ করিবার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের প্রত্যককে একজন করিয়া প্রতিনিধি মনোনীত করিতে বলিবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলিয়া মনে করিলে যুক্তিযুক্ত বলিয়া মনে হইতে পারে এমন সকল শর্ত থাকিলে তৎসাপেক্ষে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করিতে পারেন।

৪) দরখাস্তের বিষয় নিষ্পত্তি করিবার নিমিত্ত সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করিবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেকোনো পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে নির্দিষ্ট দফতরে সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার নিমিত্ত দরখাস্ত দাখিল করিতে পারে; তাহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে ও কোনো আদালতে এই সম্বন্ধে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

৫) কোনো ব্যক্তি যদি সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত অন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে—

ক) বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের তলবি ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করিতে হইবে। উক্ত টাকা উক্তরূপে পরিশোধ না করা হইলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হইবে; এবং

খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এক বৎসর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় প্রকার দণ্ড হইবে।

তখন আইনজীবী ইশরাত হাসান জানিয়েছিলেন, এখানে নারীর সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যে ইসলামিক আইন দেখিয়ে বলছে, চারজন রাখতে পারবে, সেখানে ইসলামে বলা হয়েছে, সবার প্রতি সমানভাবে সুবিচার করতে হবে। এখানে শুধু মাত্র পিক অ্যান্ড চুজ করা যাবে না। শুধু বিয়ে করতে পারবে— ওই অংশটুকু নিলে হবে না। সবার প্রতি কীভাবে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে ওইটার প্রভিশন রাখতে হবে।

টাকা দিচ্ছে কিনা। আদৌ তার বিয়ে করার আর্থিক সঙ্গতি আছে কিনা, এগুলো দেখার সুযোগ চেয়ারম্যানের নেই। মালয়েশিয়ায় কোর্টের মাধ্যমে হয়, চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নয়। কোর্ট সমন দেন, সাক্ষীদের ডাকেন। বিয়ের যে কারণটা উল্লেখ করেন, সেটা সত্য কিনা সেটা যাচাই করেন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের যাচাই করার সুযোগ নেই। এ ছাড়া চেয়ারম্যান যদি বিয়ে করতে চান তাহলে তো তিনি নিজেকে নিজে পারমিশন দিতে হবে।

পরে হাইকোর্ট ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি রুল জারি করেন। রুলে পারিবারিক জীবন রক্ষার বৃহৎস্বার্থে বহুবিবাহ আইনের বিষয়ে নীতিমালা কেন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে স্ত্রীদের মধ্যে সম অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া আইন অনুসারে বহু বিবাহের অনুমতির প্রক্রিয়া কেন অবৈধ হবে না তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

ওই রুলের শুনানি শেষে ২০ আগস্ট হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা বহাল থাকল বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তবে তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা বলেছেন।

এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর