বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

চেক জালিয়াতি মামলায় ইভ্যালির রাসেলের কারাদণ্ড, স্ত্রী শামীমা খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

শেয়ার করুন:

চেক জালিয়াতি মামলায় ইভ্যালির রাসেলের কারাদণ্ড, স্ত্রী শামীমা খালাস
চেক জালিয়াতি মামলায় ইভ্যালির রাসেলের কারাদণ্ড, স্ত্রী শামীমা খালাস । ছবি: সংগৃহীত

ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও চেক জালিয়াতির একটি মামলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঘোষিত রায়ে রাসেলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাঁকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে একই মামলার অপর আসামি ও ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


একসময় দেশে ই–কমার্স খাতে বড় পরিবর্তনের দাবি করা ইভ্যালি বর্তমানে অসংখ্য মামলার জটিলতায় জড়িয়ে আছে।

আদালত ও মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত দেড় বছরে পৃথক সাতটি মামলায় মোহাম্মদ রাসেলের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২ জুন চট্টগ্রামে একটি চেক জালিয়াতি মামলায় এই দম্পতিকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাঁরা আত্মগোপনে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, পৃথক ছয়টি মামলায় এ পর্যন্ত তাঁদের ১৭ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ সাত হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত বছরের ১২ নভেম্বর একটি মামলায় তাঁদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার আগে ১৮ সেপ্টেম্বর ও ১৩ এপ্রিল ঢাকার দুটি আদালতে পৃথক মামলায় তাঁদের তিন বছর করে কারাদণ্ড হয়।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মোহাম্মদপুরের বাসায় র‍্যাবের অভিযানে প্রথমবার গ্রেফতার হওয়ার পর ইভ্যালির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে শামীমা নাসরিন এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মোহাম্মদ রাসেল জামিনে মুক্তি পান।


বিজ্ঞাপন


জামিনে বেরিয়ে তাঁরা ইভ্যালি ২.০ নামে নতুন উদ্যোগ চালুর ঘোষণা দিয়ে গ্রাহকদের পুরোনো দেনা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে একের পর এক মামলার রায় ও সাজা ঘোষণার পর তাঁরা আবারও আত্মগোপনে চলে যান। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে এই দম্পতির বিরুদ্ধে বহু প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

ইভ্যালির পতন ও চলমান আইনি প্রক্রিয়া দেশের ই–কমার্স খাতের জন্য বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা লোভনীয় অফারের প্রলোভন দেখিয়ে হাজারো গ্রাহকের বিপুল অর্থ আদায় করেছে। যদিও রাসেল ও শামীমা দাবি করেছিলেন, ব্যবসা সচল থাকলে সব দেনা পরিশোধ করা সম্ভব, কিন্তু সাম্প্রতিক রায়গুলো তাঁদের ওই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

সর্বশেষ এই রায়ের ফলে মোহাম্মদ রাসেলের সাজার তালিকা আরও দীর্ঘ হলো। অন্যদিকে শামীমা নাসরিন এই মামলায় খালাস পেলেও অন্যান্য মামলার দায় থেকে এখনো মুক্ত নন।

এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর