বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ছাত্রদের যৌন নিপীড়নের মামলায় ঢাবি শিক্ষক কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

T
যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেফতার ঢাবি শিক্ষক এরশাদ হালিমকে পুলিশি পাহারায় আদালতে নেওয়ার মুহূর্ত। ছবি- সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একাধিক ছাত্রকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হওয়া মামলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।  

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) মামলার শুনানি নিয়ে জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম।


বিজ্ঞাপন


এ তথ্য নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম। 

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই মেহেদী হাসান মিলন শিক্ষকএরশাদ হালিমকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে তার আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় জামিন চেয়ে আবেদন করেন। 

তিনি আদালতকে বলেন, ‘আসামি কোনোভাবে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। তাকে হয়রানি করতে মামলায় জড়ানো হয়েছে। কার্যত এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘটনা ঘটলে মেডিকেল সার্টিফিকেট থাকতো।’

আইনজীবী আরও বলেন,‘শিক্ষা জীবনে এরশাদ হালিম অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের রসায়ন বিভাগের ল্যাবরেটরির দায়িত্বে রয়েছেন। অভ্যন্তরীণ অফিসিয়াল রাজনীতির শিকার তিনি। বয়স্ক একজন মানুষ। জামিনের প্রার্থনা করছি।’


বিজ্ঞাপন


আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এরশাদ হালিমকে কারাগারে পাঠানো আদেশ দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর শ্যাওড়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে এই ঢাবি শিক্ষককে আটক করে পুলিশ। ওই রাতেই ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় যৌন নিপীড়ন ও মারধরের অভিযোগে মামলা করেন। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদী রসায়ন বিভাগে পড়েন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি একটি পরীক্ষাসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এরশাদ হালিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শিক্ষক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তাকে শেওড়াপাড়ায় বাসায় যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর তিনি যৌন হয়রানির শিকার হন।

মামলায় বলা হয়, পরের দিন ওই ছাত্রকে ফোনে এরশাদ হালিম জানান, তার পরীক্ষাসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তাকে বিকেলের পালায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেবেন।

সেদিন ওই শিক্ষক তাকে আবার শেওড়াপাড়ার বাসায় ডাকেন দাবি করে অভিযোগে বলা হয়, তার ‘সমকামী আচরণের’ কারণে তিনি বাসায় যাননি। বিবাদী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। এতে এরশাদ হালিম তাকে ফোন করে গালিগালাজ করেন।

১০ অক্টোবর ঢাকায় আসার কথা তুলে ধরে মামলায় বলা হয়েছে, এরশাদ হালিম আবার ফোন করে বাসায় ডাকলে ওই ছাত্র প্রথমে রাজি হননি।

তার ভাষ্য, পরীক্ষার জটিলতার বিষয়টি জানতে পারলে তার বাবার অসুস্থতা বেড়ে যেতে পারে ভেবে তিনি ১৪ অক্টোবর রাতে আবার শেওড়াপাড়ার বাসায় যেতে বাধ্য হন। বাসায় যাওয়ার পর তাকে মারধর করার পাশপাশি যৌন নির্যাতন করা হয় বলে মামলায় ওই ছাত্র দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিন ধরে রসায়ন বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরশাদ হালিমের যৌন হয়রানির বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার তারা ওই শিক্ষকের অপকর্মের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর