অর্থ আত্মসাৎ

স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি’র বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২২, ০৪:২৫ পিএম
স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি’র বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি।

সোমবার (৪ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন সাক্ষ্য দিতে একজন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হন। এ মামলার আসামি আবুল কালাম আজাদ করোনায় আক্রান্ত, ডা. ইউনুস আলী ও ডা. দিদারুল ইসলাম হজে যাওয়ায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এজন্য আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করলে আদালত আগামী ১৪ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ১২ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আসাদ মো. আসিফুজ্জামান এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।
 
গত ৬ জুন (সোমবার) আবুল কালাম আজাদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে শুনানি করেন দুদকের আইনজীবী। অন্যদিকে আসামিদের আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য ১২ জুন দিন ধার্য করেন।
 
২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী এ মামলা করেন। মামলায় হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকার পরও করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও চিকিৎসার জন্য চুক্তি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এতে আবুল কালাম আজাদকে আসামি করা না হলেও তদন্তে নাম আসায় অভিযোগপত্রেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
 
২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
 
চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এ বদলির আদেশ দেন।
 
মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাইসেন্স নবায়ন না করা রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক চুক্তি সম্পাদন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে তিন হাজার ৯৩৯ জন করোনা রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করেন।
 
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার জন্য রোগীপ্রতি তিন হাজার ৫০০ টাকা করে মোট এক কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্য কর্মকর্তাদের মাসিক খাবার খরচ হিসেবে এক কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার চাহিদা তুলে ধরাসহ এর খসড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
 
অভিযোগপত্রে আসামিরা হলেন- স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদ, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপ-পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. শফিউর রহমান ও গবেষণা কর্মকর্তা ডা. দিদারুল ইসলাম।

এআইএম/ একেবি