পিস্তল নিয়ে এজলাসে, বিচার বিভাগের জন্য বড় হুমকি

প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২২, ১২:১১ পিএম
পিস্তল নিয়ে এজলাসে, বিচার বিভাগের জন্য বড় হুমকি

নিরাপদ স্থান আদালতের এজলাস। এখানে বিচারপতিপতি আইনজীবী পেশকার মুহুরীসহ বিচার কাজে নিয়োজিত অনেকেই দায়িত্ব পালন করেন। আর পিস্তলের লাইসেন্সধারী ব্যক্তিও সচেতন। তাকে বিভিন্ন  ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই সরকার পিস্তলের লাইসেন্স দিয়েছে। এটি কোথায় বহন করা যাবে তাও আইনে পরিস্কার বলা আছে। কিন্তু তারপরেও এজলাসে পিস্তল নিয়ে প্রবেশ করা আদালত ও বিচার বিভাগের জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিচার বিভাগের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করেন সিনিয়র আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, আদালতের নিরাপত্তার জন্য এটি বড় ধরনের হুমকি। এজলাস একটি নিরাপদ জায়গা, এখানে কোনো মতেই অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করা উচিত হয়নি। একাজ বিচারক আইনজীবীসহ সবার নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। বিষয়টি নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হোক। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্স পিস্তল ব্যবহার করতে সমস্যা নেই। কিন্তু সে পিস্তল কোথায় নিয়ে যেতে পারবেন সেটি আইনে পরিস্কার বলা আছে। এজলাস একটি নিরাপদ জায়গা, সেখানে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ বিচার বিভাগের জন্য হুমকি।

সাবেক এই বিচারপতি আরও বলেন, আদালতে বিচারক আইনজীবী পেশকার মুহুরীসহ অনেকেই থাকেন। তাদের ওখানে জামিন চাইতে পিস্তল সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া মারাত্মক হুমকি।

সরকার সচেতন ব্যক্তিকে বুঝে শুনেই অস্ত্রের লাইসেন্স দিয়ে থাকেন, তাহলে এজলাসের ভিতরে কিভাবে একজন আসামি পিস্তল নিয়ে জামিন নিতে গেলেন এমন প্রশ্ন রেখে আপিল বিভাগের আইনজীবী সগীর হোসেন লিওন ঢাকা মেইলকে বলেন, আইনের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা বিচারালয়। এখানে মানুষ বড় বড় অপরাধের বিচার চাইতে যান, আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করেন নিরস্ত্র হয়ে। কিন্তু এক আসামি কিভাবে এজলাসে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করলেন তা বোধগম্য হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে সরকার কাউকে অস্ত্রের লাইসেন্স দিলে সেটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দিয়ে থাকেন। যিনি অস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য তাকেই সরকার লাইসেন্স দেয়। তাহলে এজলাসের ভেতরে তিনি অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করেছেন সেক্ষেত্রে ভিন্ন উদ্দেশ্যে থাকতে পারে।  
 
গতকাল ৩ জুলাই গাজীপুরে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়ে বন মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন এক আসামি। এ নিয়ে আদালতে শুরু হয় হৈ চৈ। গাজীপুর বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বন আদালত -২ এ ঘটনাটি ঘটে। গ্রেফতার মনসুর আহমেদ জয়দেবপুর থানার পিরুজালি গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আইনজীবী ও উপস্থিত সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়েই আদালতের এজলাসে ঢুকে পড়েন মনসুর আহমেদ। বন মামলার আসামি মনসুর লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়ে জামিনের জন্য আদালতে হাজির হন। কিন্তু বিচারক তার জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলে তার সঙ্গে থাকা পিস্তলটি সবার নজরে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মনসুর নিশ্চিত ছিলেন আদালত তার জামিন মঞ্জুর করবেন। এ কারণে পিস্তলটি হয়তো সঙ্গে নিয়ে আদালতে প্রবেশ করেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার জাকির হাসান জানান, খবর পেয়ে সেখানে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। তাৎক্ষণিক পুলিশ অস্ত্রটি তার কাছ থেকে জব্দ করা হয়। অস্ত্র জব্দের পর সেটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আর মনসুরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

উপ-কমিশনার আরও জানান, আদালতে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে রোববার রাতেই সদর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এআইএম/এএস