ফাঁসির সেলে রজব আলী, পাঠানো হলো মৃত্যু পরোয়ানা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০২২, ০৯:৩৬ পিএম
ফাঁসির সেলে রজব আলী, পাঠানো হলো মৃত্যু পরোয়ানা

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের আসামি আলবদর নেতা কে এম আমিনুল হক ওরফে রজব আলীকে ফাঁসির সেলে পাঠানো হয়েছে। সেখান তার মৃত্যুর পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৩ জুলাই) তাকে ট্রাইব্যুনালে আনার পর ফাঁসির সেলে পাঠানোর আদেশ দেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল ঢাকা মেইলকে বলেন, গ্রেফতারের পর আলবদর নেতা রজব আলীকে ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে ফাঁসির সেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে এই আসামির বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যু পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদেস্যর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হলেন, বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলম।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও  প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল শুনানি করেন। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

শনিবার (১ জুলাই) রাতে রাজধানীর কলাবাগান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

২০১৮ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই মানবতাবিরোধী অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেন। এর আগে থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

স্বঘোষিত আল বদর নেতা রজব আলীর বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের আলীনগরে। তার বিরুদ্ধে একাত্তরে অষ্টগ্রাম থানা এলাকায় গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটের অভিযোগ প্রমাণিত হয় ট্রাইব্যুনালে।

আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুসারে, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানার আলীনগর গ্রামের রজব আলী ১৯৭০ সালে ভৈরব হাজী হাসমত আলী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ইসলামী ছাত্রসংঘের কলেজ শাখার সভাপতি হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ভৈরবে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে তিনি অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন এবং পরে এলাকায় ফিরে আল বদর বাহিনী গঠন করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আটক হয়েছিলেন রজব। ১৯৭২ সালে তার বিরুদ্ধে দালাল আইনে তিনটি মামলা হয়েছিল, যাতে তার যাবজ্জীবন সাজা হয়। কিন্তু দালাল আইন বাতিলের সুযোগে ১৯৮১ সালে রজব ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন। পরে ‘আমি আল বদর বলছি’ নামে একটি বই তিনি প্রকাশ করেন।

ওই বইয়ে রজবের মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগের আত্মস্বীকৃতি রয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়।

এআইএম/জেবি