রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ঢাকা

শ্রমিক স্বার্থ উপেক্ষা করে একতরফা আইন সংশোধনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

SKOP
শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

শ্রম আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের প্রস্তাব ও মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সংশোধনের অভিযোগ তুলেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, শ্রম আইন ২০০৬-এর অগণতান্ত্রিক ধারা সংশোধনের জন্য স্কপের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০১টি প্রস্তাবের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উপেক্ষা করে কেবল ট্রেড ইউনিয়ন সংক্রান্ত কিছু ধারাতেই আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এতে শ্রমিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে এবং আইনটি একতরফা রূপ নেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। 

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি। 


বিজ্ঞাপন


শ্রম আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় শ্রমিক পক্ষের প্রস্তাবগুলোর যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সংগঠনের নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের চলমান প্রতিবাদ দমন করতে বন্দর কর্তৃপক্ষের পুলিশি হস্তক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক আহসান হাবিব বুলবুল বলেন, শ্রম আইন ২০০৬-এর অগণতান্ত্রিক ধারা সংশোধনের জন্য স্কপের পক্ষ থেকে ১০১টি ধারার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উপেক্ষা করে কেবল ট্রেড ইউনিয়ন গঠন সংক্রান্ত কিছু ধারাতেই আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের প্রস্তাব ও মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হলে তা একতরফা এবং শ্রমিক স্বার্থবিরোধী হবে। 


বিজ্ঞাপন


image
আইনে শ্রমিকদের প্রস্তাব ও মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হলে তা শ্রমিক স্বার্থবিরোধী হবে বলে মনে করে স্কপ

এই শ্রমিক নেতা ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে সদস্য সংখ্যার ভিত্তিতে নতুন কাঠামো প্রস্তাব করেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২১–৫০ জন শ্রমিকবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ১০ জন, ৫১–১০০ জনে ১৫ জন, ১০১–২০০ জনে ২০ জন, ২০১–৪০০ জনে ৩০ জন, ৪০১–৫০০ জনে ৪০ জন, ৫০১–১০০০ জনে ৫০ জন, ১০০১–৩০০০ জনে ১০০ জন এবং ৩০০০ জনের বেশি শ্রমিকবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ৩০০ জন সদস্য নিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা যাবে। সিবিএ (কালেকটিভ বার্গেইনিং এজেন্ট) বিষয়ে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি একটি ইউনিয়ন থাকে, সেটিই সিবিএ হিসেবে কাজ করবে। একাধিক ইউনিয়ন থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটপ্রাপ্ত ইউনিয়নকেই সিবিএ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। 

image
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ অনুযায়ী শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি দীর্ঘদিনের 

আহসান হাবিব বুলবুল বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ অনুযায়ী গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, ইপিজেডসহ সব প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে একই আইন প্রযোজ্য করা, শ্রমিকদের আবাসন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা, রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা এবং অস্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করে স্থায়ী নিয়োগ নিশ্চিত করাসহ একাধিক মৌলিক দাবি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনে রয়েছে। এসব দাবি উপেক্ষা করলে শ্রমিকরা আগামী দিনে আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায় করবে।

আহসান হাবিব শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো— সব খাতে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা ও মজুরি বোর্ড গঠন; আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়নের অধিকারসহ গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন; আন্দোলনে নিহত শ্রমিকদের বিচার ও শ্রমিক হয়রানি, ছাঁটাই ও কালো তালিকা বন্ধ করা; কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ ও আইএলও কনভেনশন ১৮৯, ১৯০ অনুসমর্থন; বন্ধ পাটকল ও চিনিকল পুনরায় চালু করে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ; দুর্ঘটনায় আজীবন ক্ষতিপূরণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত; শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, রেশন, আবাসন, পেনশন ও বেকার ভাতা চালু; আউটসোর্সিং ও অস্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করে স্থায়ী নিয়োগ নিশ্চিত এবং গিগ ওয়ার্কারদের স্বীকৃতি প্রদান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের হাওলাদার, স্কপ নেতা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, রাজেকুজ্জামান রতন, চৌধুরী আশিকুল আলম ও সাইফুজ্জামান বাদশা প্রমুখ।
 
এএইচ/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর