হাজী সেলিমকে কারাগারে ডিভিশন ও চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ মে ২০২২, ০৫:২১ পিএম
হাজী সেলিমকে কারাগারে ডিভিশন ও চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ

অর্থ আত্মসাতের মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো সংসদ সদস্য হাজী সেলিমকে কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন এবং চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২২ মে) বিকেলে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলাম জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়া ও চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।

এর আগে আদালতে আত্মসমর্পণ করে যেকোনো শর্তে জামিনের আবেদন করেন হাজী সেলিম। একইসঙ্গে ডিভিশন ও চিকিৎসার জন্য আলাদা আবেদন করা হয়।

আবেদনে হাজী সেলিমের আইনজীবী শ্রী প্রাণ নাথ উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে ওপেন হার্ট সার্জারির সময় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন যাবত বাক-শক্তিহীন অবস্থায় রয়েছেন হাজী সেলিম। তিনি দেশ ও বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন। জেলে থাকলে চিকিৎসার অভাবে ও বাক-শক্তি না থাকায় যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে যেকোনো শর্তে তার জামিন আবেদন করছি। জামিন পেলে তিনি পলাতক হবেন না। তাই আপিল শর্তে আত্মসমর্পণপূর্বক তার জামিন আবেদন করছি।

যদিও তাকে ডিভিশন দেওয়ার ক্ষেত্রে আগেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোনা আপত্তি নেই বলে জানান আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

দুদকের আইনজীবী বলেন, আমরা জানি আসামি একজন সংসদ সদস্য। কারাগারে তার যে ডিভিশন পাওয়ার কথা রয়েছে, সেটির বিষয়ে আবেদন করেছে আসামিপক্ষ। ডিভিশন পাওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না।

হাজী সেলিম ও তার স্ত্রী গুলশান আরার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকার স্পেশাল জজ আদালত-৭ এর বিচারক তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। এরপর ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন হাজী সেলিম। পরে ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাজী সেলিমকে খালাস দেন হাইকোর্ট।

পরবর্তীকালে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে দুদক। শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায়টি বাতিল করে পুনরায় শুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। এরপর ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর এ মামলার বিচারিক আদালতে থাকা যাবতীয় নথি (এলসিআর) তলব করেন হাইকোর্ট। সে আদেশ অনুসারে নথি আসার পর আপিল শুনানি করা হয়।

শুনানি শেষে ২০২১ সালের ৯ মার্চ রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের ভার্চুয়াল বেঞ্চ। রায়ে হাজী সেলিমের ১০ বছরের সাজা বহাল রাখা হয়।

২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রায়ের কপি আদালত থেকে নামে (রায় প্রকাশিত হয়)। পরে ৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়। আর রায়টি অফিসিয়ালি বিচারিক আদালতে কমিউনিকেট (পাঠানো) হয় ২৫ এপ্রিল। এরই মধ্যে গত ২৭ এপ্রিল থেকে কোর্ট বন্ধ হয়ে যায়। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে ২৫ এপ্রিল থেকে ৩০ দিন সময় পান ঢাকার এই সংসদ সদস্য। সে হিসেবে আজ বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বিইউ/জেবি