রোববার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

সুপ্রিম কোর্ট বারে ভোট ফিরে আনতে চান এমকে রহমান-যূথী

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

সুপ্রিম কোর্ট বারে ভোট ফিরে আনতে চান এমকে রহমান-যূথী

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট বার। প্রায় ১৪ হাজারের মতো আইনজীবীদের সংগঠন এটি। প্রতিবারের ন্যায় এবারও ২০২৪-২০২৫ সেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৬ ও ৭ মার্চ নির্বাচন। এই অঙ্গনের নির্বাচনে সরাসরি দলীয় প্রার্থী না থাকলেও দল সমর্থিত আইনজীবী সংগঠনগুলো এ নির্বাচনের মনোনয়ন দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা এ নির্বাচনে প্যানেল করে ভোটে অংশ নিয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগসহ তার বন্ধুরা অংশ নেন সাদা প্যানেলে আর বিএনপি ও তার মিত্ররা অংশ নেন নীল প্যানেলে।

আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে এসে এবারের জোট বেঁধেছেন সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক ট্রেজারার নাহিদ সুলতানা যূথি। ইতোমধ্যে তারা নমিনেশন পত্র দাখিল করেছেন। তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করতে চান এই দুই আইনজীবী নেতা।


বিজ্ঞাপন


নির্বাচন ও সুপ্রিম কোর্ট বারের ভোট নিয়ে জানতে চাইলে এমকে রহমান বলেন, এই বারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সাপোর্ট করে প্যানেল দেওয়াটা অন্যায়। আমরা শক্তিশালী একটা বার চাই। ইন্ডিপেন্ডেন্ট একটা বার চাই। স্টং বার চাই।

প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ইলেকশন চান নাহিদ সুলতানা যূথি। তিনি বলেন, আমাদের সুপ্রিম কোর্ট বারে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ইলেকশন আমরা দেখতে চাই। যে ইলেকশনে বারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। কোন আইন-শৃংখলা বাহিনীকে আমরা আমাদের এই ইলেকশনে দেখতে চাই না। এই নির্বাচন কমিশন সুন্দর একটা নির্বাচন উপহার দেবে এটাই আমরা চাই। আইনজীবীরা ভোটাধিকার ফিরে চায়। আমি তাদের জন্য একটি কণ্ঠ। তারা আমাকে ভোট দেবে। আমাকে নির্বাচিত করবে। তাদেরইতো একটা বোন আমি। আমি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে। নির্বাচন করবো। প্রত্যাহার করব না।

রহমান-যূথী জোটের প্রধান সমন্বয়ক আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী আওসাফুর রহমান বলেন, এটা সত্য যে, আমরা এবারের নির্বাচনে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। কেউ কথা বলেন না ভয়েতে। আমি প্রকাশ্যে বলছি কেউ সাহস করে কথা বলছেন না। এখন আমরা বেশ সাড়া পাচ্ছি।

২০০৯ সালের মার্চে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান এম কে রহমান ৷ ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি তাকে অতিরিক্ত হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে তিনি ট্রাইব্যুনালের সমন্বয়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এছাড়া তিনি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির শুরুর দিকের উদ্যোক্তা ছিলেন।


বিজ্ঞাপন


এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত প্যানেলে সভাপতি পদে সিনিয়র আইনজীবী আবু সাঈদ সাগর আর সম্পাদক পদে সিনিয়র আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হককে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল হিসেবে পরিচিত) ১৪ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। এ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সম্পাদক পদে মো. রুহুল কুদ্দুস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ঘোষিত তফসিল অনুসারে, ১২ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এআইএম/এএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর