রোববার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

ডিজিটাল হাজিরা

বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে কি?

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে কি?

দেশের উচ্চ আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মঘণ্টার যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে সম্প্রতি চালু করা হয়েছে বায়োমেট্রিক বা ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের প্রত্যাশা— এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি দূর হবে এবং উচ্চ আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাবে। যদিও আইনজীবীরা বলছেন, শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করলেই হবে না, মনিটরিং করা জরুরি। কারণ মনিটরিং না করলে জবাবদিহি বাড়বে না।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হিউম্যান রাইডস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মনজিল মোরসেদ বলেন, আগে সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসতো এবং কে কখন অফিসে ঢুকলো তা খাতায় হাজিরা লিখে রাখা হতো। ওই পদ্ধতিতে কাজের ক্ষেত্রে জবাবদিহি কম ছিল। অর্থাৎ কেউ একজন অফিসে এলো ১১টায়, লিখে রাখলো উপস্থিতির সময় ১২টা। এখানে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা ছিল। কেউ ধরতে পারতো না কে কখন কত সময় পরে অফিসে এসেছে। প্রধান বিচারপতি চাইলেও বুঝতেন না সারাদিনের সবার হাজিরা। কিন্তু ডিজিটাল হাজিরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আদালতে আসা যাওয়ার সময়টা সঠিকভাবে নিরুপণ করবে। জবাবদিহি বাড়াবে।


বিজ্ঞাপন


মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। এখন প্রধান বিচারপতি চাইলেই সহজে বুঝতে পারবেন কোন কর্মকর্তা কখন কোর্টে আসলো, কোর্ট থেকে বের হয়ে গেল।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ডিজিটালাইজেশনের যুগে এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু কথা হচ্ছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আদালতে এসে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে আবার চলে গেল, কাজ করলো না, তখন কি হবে। এজন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনিটরিং জরুরি। মনিটরিং না করলে জবাবদিহি বাড়বে না, কমবে।

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার ঢাকা মেইলকে বলেন, ডিজিটাল হাজিরা আধুনিক ভার্সন। এমন সিস্টেমের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে কখন কে কোর্টে আসল, আর কখন কে কোর্ট থেকে বের হলো। যাওয়া-আসার একটা ডাটা সংরক্ষণে থাকবে। ভবিষতে কোনো প্রয়োজনে এই ডাটা কাজে দেবে। সেই সাথে এমন সিস্টেম বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাবে। কারণ সঠিক টাইমে যদি সেকশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আসেন তাহলে সঠিক সময়ে বিচারপ্রার্থী তার প্রতিকার পাবেন। সময় ধরে বসে থাকতে হবে না।


বিজ্ঞাপন


সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম আজম ঢাকা মেইলকে বলেন, ডিজিটাল হাজিরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফাঁকিবাজি কমাবে। উপস্থিতি ‍নিশ্চিত হবে। আমি মনে করি প্রতিষ্ঠানের জন্য এমন উদ্যোগ ভালো। কিন্তু এটি মনিটরিং না করলে কোনো ফল আসবে না।

এদিকে সরেজমিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকে এখনো এ যন্ত্র ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। ডিজিটাল হাজিরার সঙ্গে পরিচিত হতে তাদের সময় লাগছে। আবার অনেকে বুঝেই উঠতে পারছেন না। এর মধ্যে দুই-একজন কর্মচারী বলছেন, আমরা সিকিউরিটির দায়িত্ব পালন করি। আমাদের একেকজন একেক সময় দায়িত্ব পালন করেন। কেউ সকালে কেউবা বিকেলে। এ কারণে তারা সবসময় ডিজিটাল হাজিরা দিতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন কোর্ট, দফতর ও শাখায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে বাধ্যতামূলক হাজিরা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে সার্কুলারে আরও বলা হয়, ২১ জানুয়ারি থেকে থেকে অফিসে প্রবেশ করার সময় এবং অফিস ত্যাগ করার সময় স্ব স্ব শাখার নিকটবর্তী বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিনে বাধ্যতামূলকভাবে হাজিরা প্রদান করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এআইএম/

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর