যেভাবে খুঁজে নেওয়া হয় দক্ষ কর্মী

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২২, ১০:২৫ এএম
যেভাবে খুঁজে নেওয়া হয় দক্ষ কর্মী
ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

সঠিক প্রস্তুতির অভাবে অনেকেরই স্বপ্নের চাকরি হাতছাড়া হয়ে যায়। একটি ভালো চাকরি নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি আবশ্যক। চাকরির পরীক্ষার কয়েকটি ধাপ থাকে। এই ধাপগুলো সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা উচিত একজন প্রার্থীর। 

টেলিফোন সাক্ষাৎকার

টেলিফোন বা মোবাইলে চাকরির যে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় সেই প্রক্রিয়াকে টেলিফোন ইন্টারভিউ বা টেলিফোন সাক্ষাৎকার বলা হয়। এটি চাকরির পরীক্ষার সর্বপ্রথম ধাপ। বেশিরভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই পরীক্ষা নিয়ে থাকে। টেলিফোন সাক্ষাৎকারে প্রার্থীর কথা বলার ধরন, মনোভাব ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক বাছাইয়ের কাজটি করা হয়। নিয়োগকর্তা প্রার্থীকে টেলিফোনে বিভিন্ন প্রশ্ন করে থাকেন। যেমন- প্রার্থীর পরিচয়, নিজের সম্পর্কে বলা, কেন চাকরিটি করতে চান জানতে চাওয়া ইত্যাদি। এই সাক্ষাৎকারের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রার্থী সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া। 

jobলিখিত পরীক্ষা 

চাকরির পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো এটি। কিছু প্রতিষ্ঠানে টেলিফোন ইন্টারভিউয়ের পর লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। আবার কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ব্যাংক, বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি লিখত পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। প্রতিষ্ঠান ভেদে দুই ধাপে লিখিত পরীক্ষা হয়ে থাকে। একটি বহুনির্বাচনি পরীক্ষা এবং অন্যটি বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা। 

সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বহুনির্বাচনি পরীক্ষার বিষয়বস্তু থাকে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান। বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান ভেদে বিষয়ের তারতম্য হয়ে থাকে। কিছু প্রতিষ্ঠানে সাধারণ বিষয়গুলোর পাশাপাশি রিজনিং, অ্যানালজি, ওয়ার্ড পাজলের ওপরও পরীক্ষা নেওয়া হয়। 

দলগত আলোচনা 

সরকারি চাকরির পরীক্ষায় এই ধাপটি না থাকলেও, অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষাটি নেয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রার্থীদের একটি দলে বিভক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট একটি বিষয় দেওয়া হয় আলোচনার জন্য। অনেকক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে দেয়া হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর যোগাযোগ দক্ষতা, চিন্তা করার ক্ষমতা, সমস্যাকে কীভাবে দেখেন ও কী সমাধান দেন তা দেখা হয়। 

রোল প্লে 

চাকরির পরীক্ষার এই ধাপটিকে নির্দিষ্ট চরিত্রে অভিনয়ের ধাপ বলা হয়। প্রতিষ্ঠান ভেদে এর তারতম্য ঘটতে পারে। এই পরীক্ষায় প্রার্থীকে একটি বাস্তব পটভূমি দেওয়া হয়। প্রার্থী যে পদে আবেদন করেছেন সে পদের একজন কর্মী হিসেবে অভিনয় করে দেখাতে হয়। এতে দেখা হয় ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানে প্রার্থী কতটুকু দক্ষ। কীভাবে তিনি পরিস্থিতি সামলান। 

jobউপস্থাপনা 

এই পর্যায়ে প্রার্থীকে একটি নির্দিষ্ট বিষয় ও নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়। এর মধ্যে তাকে প্রেজেন্টেশন তৈরি করে নিয়োগকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করতে হয়। কাজটি একক বা দলগত দুইভাবেই দেয়া হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর উপস্থাপনার দক্ষতা যাচাই করেন চাকরিদাতারা। 

খেলা

ভাবছেন, চাকরির পরীক্ষায় খেলা কেন? বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই ধাপটিও মানা হয়, প্রার্থী গোলক ধাঁধা, গুপ্তধন সন্ধান, বাক্স বানানো ইত্যাদি খেলতে দেয়া হয়। প্রার্থীর নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা, দলের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা এবং লক্ষ্য পৌঁছাতে ব্যবহৃত কৌশল লক্ষ্য করা হয় এই ধাপে। 

jobসাক্ষাৎকার 

চাকরির পরীক্ষার শেষ ধাপ বলা যায় একে। প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার প্রক্রিয়াটি হলো সাক্ষাৎকার। দুটি পর্যায়ে সাক্ষাৎকার হয়ে থাকে- প্রাথমিক ও চূড়ান্ত। প্রার্থীকে ভালো করে জানা ও বোঝাই এই ধাপের উদ্দেশ্য। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার পরেই মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। বেসরকারি চাকরিতে প্রতিষ্ঠান ভেদে ভিন্ন উপায়ে মৌখিক সাক্ষাৎকার নিয়ে থাকে। 

এতগুলো ধাপ দেখে মোটেও ঘাবড়ে যাবেন না। সঠিক পূর্ব প্রস্তুতি আর নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকলে চাকরির পরীক্ষায় জয়ী হবেন আপনি।  

এনএম/ এজেড