বিসিএস ভাইভায় যে প্রশ্নগুলো আর করবে না পিএসসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:০০ পিএম
বিসিএস ভাইভায় যে প্রশ্নগুলো আর করবে না পিএসসি
ফাইল ছবি

এবারের বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় মৌলিক কিছু পরিবর্তন হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। প্রার্থীকে বিব্রত করে এমন ব্যক্তিগত বেশ কিছু প্রসঙ্গ সামনে না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে প্রার্থী কোন ধর্ম বা বিশ্বাসের অনুসারী সে প্রশ্ন তোলা হবে না বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রার্থীকে হেয় করা হয় এমন প্রশ্ন আর করা হবে না। প্রার্থী কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে তাকে ভাইভা বোর্ডে কটাক্ষ করা যাবে না। প্রশ্নের উত্তর বলতে না পারার কারণে তিরস্কার করা যাবে না। উত্তর কী সেটাও বলে দেওয়া যাবে না। এছাড়া প্রার্থীকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করা যাবে না। তাকে ‘আপনি’ করে সম্বোধন করে সম্মানিত করতে হবে। ভাইভা বোর্ডের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার জন্য এমনটি করা হবে।

সম্প্রতি পিএসসির এক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয়, ভাইভা বোর্ডে প্রার্থীর সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করে একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রার্থী কতটা জানেন সেটা বের করে আনতে হবে। যে প্রশ্নে প্রার্থী ঘাবড়ে গিয়ে তার স্বাভাবিক আচরণ ব্যাহত হতে পারে, এমন প্রশ্ন করা যাবে না।

প্রার্থীর জন্মস্থান, জেলা, ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন না করার ব্যাখ্যায় পিএসসি সূত্র জানায়, এতে ভাইভা বোর্ডে পরীক্ষক প্রভাবিত হতে পারেন। প্রার্থীর প্রতি তার দুর্বলতা তৈরি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ নিজ জেলা বা এলাকার, নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রার্থী পেলে বা না পেলে পরীক্ষক তার প্রতি ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারেন। এ পরিস্থিতি এড়াতে প্রার্থীকে জেলা, ধর্ম বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম জিজ্ঞেস করা যাবে না। 

সভায় বলা হয়, প্রার্থী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তার ধর্ম কি, তার বাড়ি কোথায়—এমন প্রশ্ন করা যাবে না। যেসব প্রশ্নে প্রার্থীর প্রতি কোনো সদস্যের ইতিবাচক বা নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয় কিংবা প্রার্থীর ব্যক্তিগত কোনো প্রশ্নের উত্তরে তার প্রতি প্রভাব বিস্তার করে এমন প্রশ্নও করা যাবে না।

পিএসসির চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইনও ভাইভা বোর্ডে এমন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা পিএসসিকে এমন একটি স্থানে নিয়ে যেতে চাই যাতে কোনো বিতর্ক না থাকে, এ নিয়ে মানুষের প্রশ্ন না থাকে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পিএসসিকে জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য করতেই তাদের এমন উদ্যোগ বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।

ডব্লিউএইচ/জেবি