৯ম শ্রেণির সাকিবের মাসিক আয় ৫০ হাজার

মুশফিকুর রহমান
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৩৮ পিএম
৯ম শ্রেণির সাকিবের মাসিক আয় ৫০ হাজার

অন্যরা যখন মোবাইল ফোনে গেইম খেলা কিংবা ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত, তখন সাকিব রাফসান ব্যস্ত ফ্রিল্যান্সিংয়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে সময় কাটে তার। তার বয়সও বেশি নয়। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিব। তিনি আয় করে তার পরিবারকে সহযোগিতা করেন। এছাড়াও নিজের ইচ্ছাও পূরণ করেন।
 
সাকিবের জন্ম ২০০৬ সালে নড়াইল জেলায়। বর্তমানে তিনি নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত।

pic
 
ফ্রিল্যান্সিং শুরুর গল্প জানতে চাইলে, এই ফ্রিল্যান্সার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি এসব বিষয়ে অনেক আগ্রহ ছিল। আমার ফ্রিল্যান্সিংয়ের শুরুটা হয়েছিল ২০১৮ সালে। শুরুতে শুধু এসব বিষয়ে ভিডিও দেখতাম। কেউ যেন বুঝতে না পারে, সেজন্য লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম। তারপর মায়ের ল্যাপটপে নিজে নিজে চেষ্টা করতাম। আস্তে আস্তে অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে। প্রথমে কাজ পাওয়াটা অনেক কঠিন ছিল। ২০১৮ সালের শেষের দিকে কাজ শুরু করলেও, কাজ পেয়েছিলাম ২০২০ সালে। শুরুর দিকে অনলাইনে করতাম। এখন অফলাইন মার্কেটপ্লেসেই কাজ করি।’
 
সাকিব নিজের জমানো মাত্র ১৯ হাজার টাকা নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা। ২০-২১ সালে মাসে দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা আয় করার কথাও জানান তিনি। 

pic
 
একদিনে আসেনি তার এ সফলতা। এর জন্য করতে হয়েছে কঠোর পরিশ্রম। সফলতার সঙ্গে সাকিবকে নিতে হয়েছে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতাও। তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে আমার ফাইবার অ্যাকাউন্ট অচল হয়ে যায়। তখন অনেক হতাশ হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আমাকে দিয়ে হবে না। কিন্তু আত্মবিশ্বাস ছিল। ভাবতাম বেঁচে থাকলে আবার করতে পারব।’

‘শুরুতে পরিবারের কেউ পাশে ছিল না। পরবর্তীতে বাবা-মা পাশে ছিল’– যোগ করেন তিনি। 

পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করেন। কিন্তু কীভাবে দুটো একসঙ্গে সামলান? জানতে চাইলে সাকিব বলেন, করোনার মাঝে পড়াশোনা করতে হতো না। তখন পুরো সময় এখানে দিয়েছি। কিন্তু সামনে পরীক্ষা। ভালো ফলাফল করার জন্য, কাজের চাপ কমিয়ে এনেছি। এখন পড়াশোনাতেই বেশি ফোকাস করছি।

pic
 
সাকিব মনে করেন, ফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে প্রচুর ধৈর্য, প্রবল আগ্রহ এবং কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হয়। কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কোন কিছুতেই সফল হওয়া সম্ভব নয়।
 
কিশোর এই ফ্রিল্যান্সার ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ফ্রিল্যান্সিং নিয়েই থাকতে চাই। আর আমার নিজের সাকিব রাফসান রেকর্ডস নামে একটা প্রতিষ্ঠান আছে। সেটিকে আরও বড় করতে চাই। অনলাইনে যত সার্ভিস আছে, সব আমার প্রতিষ্ঠানটিতে যুক্ত করতে চাই এবং দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থী

এনএম