ব্যর্থতা যাদের সাফল্যের চাবিকাঠি

‘জীবনে বারবার ব্যর্থ হয়েছি, আর তাতেই আমি সফল’

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০২২, ০২:২৮ পিএম
‘জীবনে বারবার ব্যর্থ হয়েছি, আর তাতেই আমি সফল’

বাস্কেটবল জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র মাইকেল জেফরি জর্ডান। যাকে অনেকে তার আদ্যক্ষর এমজে নামেও চেনেন। একজন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন পেশাদারী বাস্কেটবল খেলোয়াড় তিনি। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের প্রজন্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাথলিট জর্ডান দুর্দান্ত একটা ক্যারিয়ার পার করেছেন যিনি। 

১৯৯৯ সালে ইএসপিএন তাকে বিংশ শতাব্দীর সেরা অ্যাথলিট ঘোষণা করে। অনেকেই জর্ডানকে সর্বকালের সেরা বাস্কেটবল খেলোয়াড় মনে করেন। পেশাগত জীবনে সফলতার দেখা হুট করেই মেলেনি এই খেলোয়াড়ের। অসংখ্যবার তিনি হেরে গেছেন, ব্যর্থ হয়েছেন। আবার নতুন করে চেষ্টা করেছেন। 

jordanব্যর্থতা হলো সাফল্যের স্বাভাবিক পথ

ব্যর্থতা ছিল জর্ডানের বহু বছরের সঙ্গী। ভালো না হওয়ায় আর যথেষ্ট উচ্চতা না থাকায় হাই স্কুলে বাস্কেটবল দল থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়। এমন একটি খবর একজন কিশোরের পেশাদার বাস্কেটবল খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্নকে ধ্বংস করার যথেষ্ট। এক্ষেত্রে বেশিরভাগই হয়তো হাল ছেড়ে দিবে এবং ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করবে। 

তবে জর্ডান এমন কিছুই করেননি। তিনি তার চোখের জল মুছলেন। ভালো না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে গেলেন অনুশীলন। তিনি তার কোচকে তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নির্ধারণ করতে দেননি। অল্প বয়স থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে ব্যর্থতা কোনো ব্যক্তিকে সংজ্ঞায়িত করে না, তবে উঠে গিয়ে আবার চেষ্টা করার শক্তি জোগায়। 

jordanজর্ডান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি আমার ক্যারিয়ারে ৯০০০টিরও বেশি শট মিস করেছি। প্রায় ৩০০টি গেম হেরেছি। ২৬ বার, আমি গেম বিজয়ী শট নিতে গিয়ে মিস করেছি। জীবনে বারবার ব্যর্থ হয়েছি। আর তাতেই আমি সফল।’

মনপ্রাণ থেকে কিছু চাইলে তা পাওয়া যায় 

জর্ডানের প্রাক্তন প্রধান কোচ নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই খেলোয়াড়ের সংকল্প নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। কীভাবে নিজের ইচ্ছার প্রতি একাগ্রতা তাকে সবচে সেরা পরিণত করেছিল তা জানিয়েছিলেন। স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, জর্ডান বলেছিল, ‘আমি আপনাকে দেখাতে চাই যে, আমি যতটা পরিশ্রম করি তেমন কেউ কখনও পরিশ্রম করবে না।’ নিজের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই কাজ করেছিলেন তিনি। 

jordanজীবনে যতবার জর্ডান ব্যর্থ হয়েছেন, ততবার নতুন করে আবার শুরু করেছেন। বিখ্যাত এই খেলোয়াড় মনে করেন, ব্যর্থতা মেনে নেওয়া উচিত। সবাই কিছু না কিছুতে ব্যর্থ হয়। তবে নতুন করে চেষ্টা না করা উচিত নয়। 

আমাদের জীবনেও ব্যর্থতা আসে। হেরে যাই আমরা। জর্ডানকে যেদিন হাই স্কুলে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়, সেদিন তিনিও হেরে গেছিলেন। এরপর যদি কঠিন পরিশ্রম না করতেন, চেষ্টা না করতেন তবে আজ সফল ব্যক্তি হিসেবে আমরা তার নাম নিতাম না। তাই, আপনার কাজের প্রতি একাগ্রতা বজায় রাখুন। হেরে গেলে নতুন করে আবার চেষ্টা করুন। 

এনএম