শহুরে ব্যস্ত জীবনে অফিসের কাজের চাপ আর যান্ত্রিকতা আমাদের প্রায়ই ক্লান্ত করে তোলে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফাইলের স্তূপ আর কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মানসিক অবসাদ আসাটা অস্বাভাবিক নয়। এই একঘেয়েমি শুধু কাজের ক্ষতি করে না, বরং শরীর ও মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই নিজেকে নতুন করে রিচার্জ করতে নিয়মিত বিরতি বা ঘুরতে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
বিরতি কেন জরুরি?
বিজ্ঞাপন
টানা কাজ করলে আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় 'বার্নআউট' বলা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বিরতি নেন, তাদের কাজের মান অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো হয়। ঘুরতে গেলে কেবল মন ভালো হয় না, বরং এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ পথ যাতায়াত করেন, তাদের পেশি ও জয়েন্টের ক্লান্তি দূর করতে ছোট সফর দারুণ কার্যকর।

কতদিন পর পর ঘুরতে যাবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি তিন মাস বা ৯০ দিন পর পর অন্তত তিন থেকে চার দিনের জন্য যান্ত্রিক শহর থেকে দূরে কোথাও ঘুরে আসা উচিত। তবে দীর্ঘ ভ্রমণের সুযোগ না থাকলে প্রতি মাসে অন্তত একবার ঢাকার আশেপাশে বা নিজের গ্রামের বাড়িতে দুই দিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন। এই ছোট বিরতিগুলো আপনার একঘেয়েমি কাটিয়ে কাজের প্রতি নতুন উৎসাহ তৈরি করবে।
বিজ্ঞাপন
ছোট সফরের বড় সুফল
অনেকে মনে করেন অনেক টাকা জমিয়ে বড় কোনো ট্যুর দিতে হবে, যা সব সময় সম্ভব হয় না। অথচ সাধ্যের মধ্যে ছোট সফরও অনেক উপকারী। সবুজের সান্নিধ্য বা প্রিয় মানুষের সাথে কাটানো সময় আপনার মানসিক চাপ এক নিমেষেই কমিয়ে দিতে পারে। এটি পারিবারিক বন্ধনকেও আরও মজবুত করে।
আরও পড়ুন: অফিসে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করবেন কীভাবে?
পরিকল্পনা যখন সফল
বছরের শুরুতেই ক্যালেন্ডার দেখে সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা সেরে ফেলুন। আগে থেকে পরিকল্পনা করলে অফিসের কাজ গুছিয়ে রাখা সহজ হয় এবং মানসিক চাপমুক্ত হয়ে ঘোরাঘুরি করা যায়। মনে রাখবেন, অফিস বা ক্যারিয়ার সবই থাকবে, কিন্তু সুস্থ শরীর ও সুন্দর স্মৃতিগুলোই জীবনের আসল সম্পদ।
এজেড




