সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

‘পথশিশুদের মাদকমুক্ত ভবিষ্যতের জন্য চাই শিক্ষা ও কর্মসংস্থান’

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

‘পথশিশুদের মাদকমুক্ত ভবিষ্যতের জন্য চাই শিক্ষা ও কর্মসংস্থান’
গ্রাফিক্স: ঢাকা মেইল

রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও পার্কে প্রতিদিনই দেখা মেলে পথশিশুদের। কারও হাতে থাকে ফুল, কারও হাতে বোতল বা কাগজ, আবার কেউ জীবিকার তাগিদে ঘুরে বেড়ায় এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়। দিনের ব্যস্ততা শেষে অনেক শিশুর রাত কাটে ফুটপাত, ওভারব্রিজের নিচে কিংবা খোলা জায়গায়। নিরাপদ আশ্রয়, নিয়মিত খাবার, শিক্ষা ও পরিবারের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত এসব শিশুর একটি অংশ ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ছে মাদকের সঙ্গে।

মাঠপর্যায়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ৮ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা মাদকের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। বিশেষ করে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরা অসৎ সঙ্গ ও অনিরাপদ পরিবেশের কারণে সহজেই মাদকের ফাঁদে পড়ে। ড্যান্ডি, বিড়ি-সিগারেট, গাঁজা ও বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যের পাশাপাশি মাদক পরিবহন ও বিক্রির কাজেও কিছু শিশুকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদকাসক্ত শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি প্রয়োজন নিরাপদ পরিবেশ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। শুধু খাবার বা সাময়িক আশ্রয় দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে এসব শিশুকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই হতে পারে স্থায়ী সমাধানের পথ। পথশিশুদের মাদকাসক্তি, এর কারণ, পুনর্বাসনের সংকট এবং করণীয় নিয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে কথা বলেছেন পথশিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পরিচালক নাজমুল হাসান রাসেল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আব্দুল হাকিম। 

ঢাকা মেইল: মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে পথশিশুদের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতা কতটা দেখেছেন? কোন বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
নাজমুল হাসান: আমরা ২০১৭ সাল থেকে পথশিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পথশিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কাজ করছি। বিশেষ করে আমাদের ‘অদম্য স্কুল’-এর মাধ্যমে এসব শিশুকে নিয়মিত পাঠদান ও মৌলিক শিক্ষার আলো দেওয়ার চেষ্টা করছি। দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা অত্যন্ত আশঙ্কাজনকভাবে দেখেছি, সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুর একটি বড় অংশ কোনো না কোনো ধরনের মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে। পরিবারহীনতা, চরম হতাশা, অনিরাপত্তা, ট্রমা ও ক্ষুধা ভুলে থাকার তাগিদ থেকেই মূলত তারা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বয়সের হিসাবে ৮ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এর প্রভাব ও বিস্তার সবচেয়ে বেশি। এই বয়সের শিশুরা খুব সহজেই অসৎ সঙ্গের প্রভাবে পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে মাদকের কুফলে আটকে যায়।

ঢাকা মেইল: পথশিশুরা সাধারণত কোথা থেকে বা কার মাধ্যমে মাদক সংগ্রহ করে? এ বিষয়ে আপনাদের মাঠপর্যায়ের কোনো অভিজ্ঞতা বা তথ্য আছে?
নাজমুল হাসান: মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখি, পথশিশুরা মূলত স্থানীয় ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ী, সুবিধাবাদী বড় ভাই এবং অনেক সময় টোকাই বা পুরোনো পথশিশুদের মাধ্যমে মাদকের নাগাল পায়। কিছু অসাধু চক্র এসব শিশুকে দিয়ে প্রথমে মাদকের চালান আনা-নেওয়া বা সরবরাহের কাজ করায়। বিনিময়ে তাদের অল্প টাকা বা বিনামূল্যে মাদক দেওয়া হয়। এভাবে কৌশলে শিশুদের মাদকের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়।
সহজলভ্য মাদকের মধ্যে তারা মূলত ড্যান্ডি বা আঠা, বিড়ি-সিগারেট, কমদামি গ্যাসে সোঁকা, গাঁজা কিংবা নেশাজাতীয় ওষুধ বা সিরাপ ব্যবহার করে। আশপাশের দোকান বা নির্দিষ্ট সোর্স থেকে এসব মাদক তারা সহজেই পেয়ে যায়।

ঢাকা মেইল: খেলার মাঠ, পার্ক বা জনসমাগমের জায়গাগুলোতে শিশুদের মাদক গ্রহণ বা মাদক বিক্রির ঘটনা আপনারা দেখেছেন কি?
নাজমুল হাসান: হ্যাঁ। খেলার মাঠ, পার্ক, বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন কিংবা ওভারব্রিজের নিচের মতো জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় পথশিশুদের প্রকাশ্যে মাদক গ্রহণ এবং মাদক বেচাকেনায় জড়িয়ে পড়তে আমরা নিয়মিত দেখি। অনেক সময় সাধারণ মানুষ চোখের সামনে এসব দেখলেও ঝামেলা এড়াতে চুপ থাকেন।

বড় মাদক ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে বা নিজেদের নিরাপদ রাখতে শিশু-কিশোরদের ক্যারিয়ার বা বিক্রয়কর্মী হিসেবে ব্যবহার করে। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী অসৎ চক্রও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা বা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এসব শিশুকে ব্যবহার করে। কারণ শিশুদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহ তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

ঢাকা মেইল: মাদকাসক্ত একটি শিশুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে আপনারা সবচেয়ে বড় কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন?
নাজমুল হাসান: মাদকাসক্ত একটি শিশুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা আমাদের কাজের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পুনর্বাসন কেন্দ্র ও বিশেষায়িত চিকিৎসার অভাব। পথশিশুদের বিনামূল্যে ও দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা দেওয়ার মতো সরকারি বা বেসরকারি উপযুক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র খুবই সীমিত। শুধু শরীর থেকে মাদক দূর করলেই হয় না। তাদের মানসিক ট্রমার জন্য কাউন্সেলিংও জরুরি। কিন্তু এই সেবা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত কাউন্সেলর ও ব্যবস্থা দেশে অপ্রতুল।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো চিকিৎসা বা কাউন্সেলিং শেষে শিশুটিকে আবার আগের একই পরিবেশ বা রাস্তায় ফিরে যেতে হয়। তখন তারা পুরোনো সঙ্গ ও মাদকের কাছে আবার ফিরে যায়। পাশাপাশি মাদক ছাড়ার সময় যে তীব্র উইথড্রয়াল সিম্পটম বা ছটফটানি তৈরি হয়, তা সামলানোর জন্য পেশাদার ও ধৈর্যশীল টেককেয়ার পাওয়ার সুযোগও খুব কম।

ঢাকা মেইল: পথশিশুদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সরকার, সিটি করপোরেশন ও সমাজের কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে আপনি মনে করেন?
নাজমুল হাসান: পথশিশুদের মাদক থেকে পুরোপুরি দূরে রাখতে হলে একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারের দায়িত্ব হলো-পথশিশুদের জন্য ডেডিকেটেড বিশেষায়িত সরকারি রিহ্যাবিলিটেশন (পুনর্বাসন) ও ডি-অ্যাডিকশন সেন্টার স্থাপন করা। পাশাপাশি, শিশু সুরক্ষা আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে শিশুদের দিয়ে যারা মাদক ব্যবসা করাচ্ছে, সেই মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।

সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব হলো, শহরের পার্ক, বাস টার্মিনাল, স্টেশন ও ফুটপাতগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং সেগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদ রাখা। পথশিশুদের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক অলটারনেটিভ শেল্টার হোম, মৌলিক শিক্ষার ব্যবস্থা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা।
সমাজ ও সামাজিক সংগঠনের দায়িত্ব হলো, পথশিশুদের প্রতি ঘৃণা বা অবহেলা না দেখিয়ে সহানুভূতির দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা। সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উচিত এসব শিশুদের মৌলিক চাহিদা (খাবার, পোশাক, বিনোদন) পূরণে এগিয়ে আসা, যাতে তারা ক্ষুধা বা বিষাদ থেকে মাদকের দিকে না ঝুঁকে সুস্থ-স্বাভাবিক শৈশব পেতে পারে।

সর্বোপরি আমার মনে হয়, পথশিশুদের মাদক থেকে চিরতরে দূরে রাখা এবং সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান হলো তাদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা। শুধু সাময়িক আশ্রয় বা খাবার দিয়ে এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। 
এই লক্ষ্যে আমি মনে করি, সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যেমন-
১. বয়সভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা: যেসব পথশিশু কিছুটা বড়, বিশেষ করে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী, তাদের সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও যুগোপযোগী কারিগরি প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। তাদের আগ্রহ ও বয়স বিবেচনায় ডাইভিং, ইলেকট্রিক্যাল কাজ, মোবাইল সার্ভিসিং, মেকানিক্স, সেলাই ও গার্মেন্টস কাজ, কম্পিউটার অপারেটিং কিংবা বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্পের মতো কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। এতে তারা পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন করতে পারবে, যা ভবিষ্যতে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
২. বিশেষায়িত ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট: সরকারিভাবে পথশিশুদের জন্য ডেডিকেটেড বা বিশেষ সুবিধাযুক্ত ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা দরকার। এসব কেন্দ্রে তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকা, খাওয়া এবং প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। কারণ শুধু প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেই হবে না, তাদের জীবনযাপনের মৌলিক বিষয়গুলোও নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ পরিবেশে থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেলে তারা ধীরে ধীরে রাস্তার অনিরাপদ পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।

৩. প্রশিক্ষণকালীন উপবৃত্তি: প্রশিক্ষণ চলাকালে এসব শিশুর জন্য ক্ষুদ্র উপবৃত্তি বা ভাতার ব্যবস্থা করা জরুরি। কারণ অনেক পথশিশুই জীবিকার তাগিদে রাস্তায় কাজ করে। তাদের প্রশিক্ষণে নিয়ে এসে যদি সেই আয়ের বিকল্প ব্যবস্থা করা না যায়, তাহলে তারা আবার রাস্তায় ফিরে যেতে বাধ্য হবে। তাই প্রশিক্ষণের সময় একটি নির্দিষ্ট ভাতা বা উপবৃত্তি নিশ্চিত করা গেলে তারা প্রশিক্ষণে মনোযোগ দিতে পারবে এবং জীবিকার প্রয়োজনে মাদক বা অপরাধের পরিবেশে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।

৪. কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন কোটা: প্রশিক্ষণ শেষে এসব শিশুর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কারখানা ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পে তাদের শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজের সুযোগ কিংবা যোগ্যতা অনুযায়ী স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে বিসিক বা বিআরডিবির মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহজ শর্তে বা জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে তারা ছোট দোকান, ওয়ার্কশপ বা নিজেদের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো ছোট উদ্যোগ শুরু করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে।

৫. সামাজিক মর্যাদাবোধ সৃষ্টি: কাজ ও উপার্জনের মাধ্যমে যখন একজন শিশু নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে, তখন তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধ তৈরি হবে। সে বুঝতে পারবে, সমাজে তারও একটি ভূমিকা রয়েছে এবং নিজের দক্ষতা দিয়ে সে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে। এই আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মর্যাদাবোধ তাকে অপরাধ কিংবা মাদকের জগৎ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এক কথায় বলতে গেলে, শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে এসব শিশুকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে তারা দেশের বোঝা হয়ে থাকবে না, বরং দেশের অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। তাই পথশিশুমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শুধু সাময়িক আশ্রয় বা খাবারের ব্যবস্থা নয়, তাদের শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি, পরিকল্পিত ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

এএইচ/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর