কামরুল হাসান শায়ক। পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। প্রকাশনা ও মুদ্রণ বিশেষজ্ঞ হিসেবেও খ্যাতি আছে তার। এ বিষয়ে একাধিক বই লিখেছেন। শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা তার একাধিক বই বেশ সমাদৃত হয়েছে পাঠকমহলে। গল্পও লিখছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করে প্রকাশনাশিল্পে মন দেন। নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে সফলতার শিখরে পৌঁছান। পরবর্তীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বাংলাদেশের মানুষের বই পড়ার অভ্যাস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে প্রকাশনা শিল্পের চ্যালেঞ্জ এবং আসন্ন (২০২৭) অমর একুশে বইমেলাকে সামনে রেখে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডের প্রস্তুতিসহ নানা বিষয়ে তার সঙ্গে আলাপ হয় সম্প্রতি। প্রসঙ্গত, আজ ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাবিবুল্লাহ ফাহাদ
বইয়ের পাঠক কমছে। বাংলাদেশে লেখক-প্রকাশকদের অনেকের মুখে এমন হতাশা শোনা যায় প্রায়ই। আপনি কী মনে করেন?
আমার মূল্যায়নে, মুদ্রিত বইয়ের পাঠক কমছে। কিন্তু সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে পাঠক বরং অনেক বেড়েছে। আরও স্পষ্টভাবে বলা যায়- মানুষের অবসর-পাঠের সময় ও দীর্ঘ লেখা পড়ার মনোযোগ চাপের মুখে পড়েছে। কিন্তু পাঠ নিজে বিলুপ্ত হচ্ছে না। পাঠের মাধ্যম, ধরণ, আবিষ্কারের পথ এবং বই কেনার আচরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশ্ববাজারের তথ্যও এই পার্থক্যটি স্পষ্ট করে।
বিশ্বে আসলে কী ঘটছে?
বিশ্বের সব দেশের চিত্র এক নয়। European and International Booksellers Federation-এর ২০২৪ বাজার-পর্যালোচনায় ২২টি বাজারের মধ্যে মাত্র ছয়টিতে বই বিক্রি বেড়েছিল; অর্থাৎ অনেক বাজারেই চাপ আছে। কিন্তু একই সঙ্গে e-book ও audiobook-এর অংশ অর্ধেকের বেশি বাজারে বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক তথ্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। Pew Research Center-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ৭৫ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক গত ১২ মাসে অন্তত একটি বইয়ের কিছু অংশ পড়েছেন। এ হার ২০১১ সালের পর মোটামুটি স্থিতিশীল। তবে ছাপা বই পড়ার হার ২০১১ সালের ৭২ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৬৪ শতাংশে নেমেছে। অন্যদিকে ই-বুকের পাঠক বেড়ে ৩১ শতাংশে পৌঁছেছে এবং audiobook-এর ব্যবহারও দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ print readership কমা এবং total readership কমা এক জিনিস নয়।
বিশ্বের বইয়ের বিপণনও কি একই তথ্য দিচ্ছে?
বাজারের দিক থেকেও একই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালে হার্ডকভারের বিক্রি তিন দশমিক ছয় শতাংশ, পেপারব্যাক তিন শতাংশ এবং ডিজিটার অডিও বুকের বিক্রি ২২ দশমিক ৫ বেড়েছিল। ২০২৫ সালেও ডিজিটাল অডিও বুক এবং ই-বুক রেভিনিউ বেড়েছে এবং প্রিন্ট এখনো পাবলিশিং রেভিনিউয়ের বড় অংশ। এই তথ্য আমি দিচ্ছি PublishersWeekly.com এর সূত্রে। তাই আমি বর্তমান পরিবর্তনটিকে বলব ‘death of reading’ নয়, বরং ‘reconfiguration of reading’।
তাহলে কেন লেখক-প্রকাশকদের মনে হচ্ছে পাঠক কমছে?
এখানে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটেছে মানুষের অ্যাটেনশন ইকোনমিতে। আগে একটি উপন্যাসের প্রতিযোগী ছিল আরেকটি বই, সিনেমা বা টেলিভিশন। এখন একটি বইকে একই মানুষের সময়ের জন্য প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে Facebook, YouTube, TikTok, Netflix, gaming, podcast, messaging এবং অসংখ্য notification-এর সঙ্গে। ফলে সমস্যা শুধু ‘মানুষ পড়তে চায় না’ এত সরল নয়। সমস্যা হচ্ছে একটানা ৩০ থেকে ৬০ মিনিট একটি বই নিয়ে বসার সুযোগ ও মানসিক অভ্যাস কমে যাচ্ছে। এবছর (২০২৬ সালে) কুয়ালালামপুরে ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশিং অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের এক সেমিনারে বিভিন্ন দেশে pleasure reading-এর সময় কমে যাওয়াকে publishing industry-র গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই সেমিনারে আমার নিজেরও সশরীরে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল।
এর স্ববিরোধী কথা হচ্ছে, মানুষ সম্ভবত ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি text consume করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম Facebook post, news, message, caption, blog, online article ইত্যাদিতে। অথচ তার একটি বড় অংশ deep reading নয়, fragmented reading। এটাই বইয়ের জন্য বড় বিপদ।
বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের জন্য এটি কতটা সংকট তৈরি করছে বলে মনে করেন?
বাংলাদেশে বিষয়টি শুধু ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে ঘটছে বলে আমি মনে করি না। এখানে অন্তত পাঁচটি সংকট একসঙ্গে কাজ করছে। পাঠাভ্যাসের দুর্বলতা, বইয়ের ক্রয়ক্ষমতা, বিতরণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, মানসম্পন্ন ও পাঠককেন্দ্রিক বইয়ের ঘাটতি এবং ডিজিটাল বিনোদনের প্রতিযোগিতা।
বাংলাদেশে ২০২৫ সালের শুরুতেই প্রায় সাত কোটি ৭৭ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং প্রায় ছয় কোটি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর হিসেবে মিলেছিল একটি জরিপে। অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মের অবসর সময়ের বড় অংশের জন্য বইকে এখন সরাসরি স্মার্টফোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। Data Reportal Global Digital Insights এই তথ্য দিচ্ছে। বাংলাদেশে আগের একটি গবেষণাতেও শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইলেক্টনিক মিডিয়াতে বইয়ের তুলনায় বেশি সময় ব্যয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা প্রযুক্তি থেকে বেশি আনন্দ পাওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।
বর্তমানের নতুন প্রজন্মকে একেবারে বইবিমুখও কি বলা যাবে?
না তা বলা যাবে না। নতুন প্রজন্মকে একেবারে বইবিমুখ বলাও ভুল হবে। ২০২৫ সালে ঢাকার Gen Z শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি গবেষণায় দেখা যায়, ৯০ শতাংশের বেশি প্রতিদিন search engine/social media ব্যবহার করলেও ৫৪ শতাংশ গত এক বছরে গ্রন্থাগারে গিয়েছিল অর্থাৎ serious reading-এর জন্য হার্ডকপির গুরুত্ব বর্তমানেও রয়েছে । এখানেই বাংলাদেশের প্রকাশকদের জন্য বড় আশার জায়গা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের একটি আত্মসমালোচনাও প্রয়োজন।
কী ধরনের আত্মসমালোচনার কথা বলছেন?
আমরা যদি শুধু বলি পাঠক বই পড়ে না, তাহলে সমস্যার দায় সম্পূর্ণ পাঠকের ওপর দিয়ে দেওয়া হয়। আমার মতে সেটি ন্যায্য নয়। প্রকাশকদেরও প্রশ্ন করতে হবে। আমরা কি নতুন পাঠকের প্রয়োজন বুঝে বই প্রকাশ করছি? একজন ১৫ বছরের কিশোর বা ২৫ বছরের তরুণ কেন ৫০০ টাকা দিয়ে আমাদের বইটি কিনবে? বইয়ের cover, typography, editing, illustration, paper, binding ও overall design কি তাকে আকর্ষণ করছে? বইটি সে কোথায় আবিষ্কার করবে? Facebook বা YouTube-এ? BookTok/BookTube ধরনের recommendation-এ? বইয়ের দোকানে? বন্ধুর মাধ্যমে? Library-তে? আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-ঢাকার বাইরে একজন পাঠক কত সহজে বইটি পেতে পারেন? বাংলাদেশের publishing ecosystem এখনো অনেকাংশে ‘বই প্রকাশ’ কেন্দ্রিক; ‘পাঠক তৈরি’ কেন্দ্রিক নয়। এই জায়গাটিই বদলাতে হবে। বইমেলাকেন্দ্রিক প্রকাশনা সংস্কৃতিও পুনর্বিবেচনা দরকার।
এ ব্যাপারে আপনার প্রস্তাবনা কী হতে পারে?
বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি এলেই বই, লেখক ও প্রকাশনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। কিন্তু একটি সুস্থ প্রকাশনা শিল্পের প্রয়োজন ১২ মাসের reading economy। বইমেলা হবে উদযাপন। কিন্তু বইয়ের বাজারের একমাত্র চালিকাশক্তি হওয়া উচিত নয়। স্কুলে রিডিং প্রোগ্রাম, স্কুল লাইব্রেরি, পাড়ার বইয়ের দোকান, অনলাইন বইয়ের বিপণন, বুক ক্লাস, লেখকের সঙ্গে দেখা হওয়া, বাচ্চাদের পাঠের সেশন, লাইব্রেরি ফেস্টিভাল এবং ডিজিটাল ডিসকভারি-সবকিছুকে একই ecosystem-এর অংশ করতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ‘আগে পাঠক তৈরি, পরে ক্রেতা তৈরি’ এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিশু যদি আট থেকে ১২ বছর বয়সে আনন্দের জন্য বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করে, সে ভবিষ্যতের adult reader এবং book buyer হওয়ার সম্ভাবনা বহন করে।
এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুযোগটি কোথায়?
আমার মতে বাংলাদেশের প্রকাশকদের সবচেয়ে বড় ভুল হবে ডিজিটাল মাধ্যমকে বইয়ের শত্রু মনে করা। বরং স্মার্টফোনই বইয়ের সবচেয়ে বড় মার্কেটিং চ্যানেল হতে পারে। একটি ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও একটি ৩০০ পৃষ্ঠার উপন্যাস বিক্রি করতে পারে। লেখকের ছোট সাক্ষাৎকার, গল্পের চরিত্র নিয়ে animation, প্রথম অধ্যায়ের audio sample, পাঠকের রিভিউ, শিশুদের storytelling video’ এসবের মাধ্যমে screen থেকে পাঠককে বইয়ের দিকে নিয়ে আসতে হবে।
বিশ্ববাজারে অডিওবুকের দ্রুত বৃদ্ধি আমাদের বিশেষভাবে লক্ষ্য করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালে ডিজিটাল অডিও সেল ২২ দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়েছিল। যুক্তরাজ্যে একই বছরে অডিওবুক রেভিনিউ ৩১ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ২৬৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। PublishersWeekly.com- এ তথ্য দিচ্ছে।
বাংলাদেশে দীর্ঘ যাতায়াত পথে, যানজটে এবং স্মার্টফোনের ব্যবহার বিস্তার বিবেচনায় বাংলা অডিওবুকের সম্ভাবনা আমার মতে এখনো অনেকটাই অনাবিষ্কৃত। এআইও একই সঙ্গে হুমকি ও সুযোগ। ২০২৬ সালের বাস্তবতায় আপনি এআইকে উপেক্ষা করতে পারবেন না। মানুষ এখন কোনো বিষয়ের সংক্ষিপ্তসার কয়েক সেকেন্ডে পেতে পারে। ফলে সাধারণ তথ্যনির্ভর বইয়ের কিছু অংশে চাপ বাড়তে পারে। কিন্তু এআই মানুষের গল্প শোনার প্রয়োজন, কল্পনা, আবেগ, সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা এবং একটি সুন্দর বই হাতে নেওয়ার আনন্দের বিকল্প হতে পারবে না।
তাই ভবিষ্যতের প্রকাশককে শুধু কনটেন্ট পাবলিশার্স হলে চলবে না। তাকে হতে হবে curator, storyhunter, community builder এবং একই সঙ্গে technology user। আমি বাংলাদেশের লেখক-প্রকাশকদের হতাশার সঙ্গে একমত হব এই অর্থে যে, পুরোনো পদ্ধতিতে বইয়ের পাঠক ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। কিন্তু ‘মানুষ আর বই পড়বে না’ এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নই। বরং সমীকরণটি আমার কাছে এমন, পাঠক কমছে না বরং পুরোনো ধরনের পাঠক কমছে। পাঠের সময় কমছে কিন্তু content consumption বাড়ছে। ছাপা বই চাপের মধ্যে। কিন্তু তার আবেদন শেষ হচ্ছে না। ডিজিটালে বাড়ছে। কিন্তু সেটিকে বইয়ের শত্রু বিবেচনা করা উচিত নয়।
তাহলে পাঠককে বইয়ে দিকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কী হতে পারে?
ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক আলোচনাতেও মূল প্রশ্নটি তাই—কীভাবে পাঠককে keep and recover করা যায় এবং রিডিং প্রমোশনকে প্রকাশনা শিল্পের আলোচ্য বিষয়ের কেন্দ্রে নিয়ে আসা যায়। বাংলাদেশের জন্য তাই আমার প্রস্তাব হবে একটি জাতীয় লক্ষ্য আরও বেশি বই প্রকাশ নয় বরং আরও বেশি মানুষকে নিয়মিত পাঠকে পরিণত করা। এটি করতে পারলে প্রকাশকের ব্যবসা বাড়বে, লেখকের পাঠক বাড়বে এবং একই সঙ্গে একটি বেশি চিন্তাশীল ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠবে।
এই পরিস্থিতে আসন্ন ২০২৭ সালের অমর একুশে বইমেলা নিয়ে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডের প্রস্তুতি কী রয়েছে?
সামগ্রিক প্রতিকূলতা বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন ২০২৭ -এর অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে বই প্রকাশের আয়োজন সাড়ম্বরেই চলছে বলা যায়। আমরা পাঠক নিয়ে গবেষণা করি, পাঠকের চিন্তা চেতনা লেখকদের সাথে শেয়ার করি, বিশ্বসাহিত্যের গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণে রেখে বই প্রকাশের কৌশল নেই। সেই সংগে বইয়ের সেলস-মার্কেটিং এবং ডিস্ট্রিবিউশন কার্যকর এবং সর্বাত্মক দক্ষতার সাথে করার চেষ্টা করি। আমাদের প্রকাশনার কর্মপদ্ধতির সকল জায়গায় পেশাদারিত্ব বজায় রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করি। ফলশ্রুতিতে ভালো পান্ডুলিপির বই বিক্রয়ে পাঞ্জেরী সব সময়ে সবার থেকে এগিয়ে। সেই বাস্তবতায় অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ এ আমরা ৬০ টির মতো বই প্রকাশ করতে যাচ্ছি।
বইগুলো সম্পর্কে যদি বলতেন?
প্রায় সব ধরনের পাঠকের জন্য জনপ্রিয় সকল বৈচিত্র্যময় বিষয়ে বই প্রকাশ হচ্ছে আসন্ন একুশে বইমেলায় পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে। এবারের বইমেলায় পাঞ্জেরী'র বড় চমক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম-এর রচনাবলি। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী'র প্রবন্ধের বই বিচ্ছিন্নতায় অসম্মতি, আনোয়ারা সৈয়দ হকের কিশোর উপন্যাস সমগ্র-৫, মুহম্মদ নূরুল হুদা'র শেষ নবী শ্রেষ্ঠ নবী। এছাড়া রতন সিদ্দিকীর কিশোর উপন্যাসিকা তেতুল তলার মাঠ, হারুনুজ্জামানের উপন্যাস Entwined, মোহিত কামালের উপন্যাস NO, নাসির আলী মামুনের উপন্যাস যে জীবন যার, খ ম হারুনের স্মৃতিকথা ডাযেরী ১৯৭২ এবং কয়েকটি দিন, মোস্তফা কামালের রূপকথার গল্প রূপকথার গল্প: গুপ্তধন,হাসান হাফিজের ছড়াগ্রন্থ পাখির ছবি পাখির ছড়া, স্বকৃত নোমানের গীতিকাশ্রয়ী কিশোর গল্প ছোটদের পূর্ববঙ্গ গীতিকার গল্প, আহমেদ খান হীরকের ছোটগল্প গন্ধম, অরুণ কুমার কিশোর কিশোর গোয়েন্দা সিরিজের পাশাপাশি আত্মোন্নয়নের বই হ্যাপি দ্য ম্যান : সুখের সমীকরণ, ববি হাজ্জাজের গবেষণামূলক প্রবন্ধ বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা: দ্য লার্নিং নেশন, ঝর্না রহমানের সম্পাদনায় একাত্তরের দুর্নিবার নারী মুক্তিযোদ্ধা ও দুঃসহ স্মৃতি, নাসিমা আনিসের উপন্যাস মোহিনীর থান, কিংকর আহসানের উপন্যাস রাজতন্ত্র, কিযী তাহনিনের ছোট গল্প দেড় নম্বরি, জাহিদ হায়দারের কবিতাসংগ্রহ, তানভীর মোজাম্মেলের ভ্রমণকাহিনী নির্বাচিত ভ্রমণকাহিনী, মশিউর রহমান শান্ত'র উপন্যাস No Finish Line, কামরুল হাসান শায়কের শিশুতোষ গল্প মায়া এবং মজার ঘাসফড়িং। আর পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডের আকর্ষণীয় প্রকাশনা শাহরিয়ার খানের বেসিক আলীসহ দুর্দান্ত সব কমিকসের বিশাল সম্ভার।
আমাকে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ।




