বিশ্বের জনবহুল দেশ চীনে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিয়ের প্রতি অনীহা তৈরি হয়েছে। কেউ আর সেভাবে ঘটা করে বিয়ে করতে চাইছেন না। সন্তান পালনেও আগ্রহ হারিয়েছেন চীনা যুগলরা। অপরদিকে জনসংখ্যা কমতে থাকা জাপানে জন্মহার বাড়াতে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালের পরিসংখ্যান বলছে, সে বছর চীনে ৭৬ লক্ষ ৩০ হাজার যুগল বিয়ের জন্য সরকারি খাতায় নাম নথিভুক্ত করিয়েছিলেন। ২০২২ সালে এক বছরের মধ্যে সেই সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমেছে।
বিজ্ঞাপন

২০২২ সালে চীনে বিয়ে করেছেন ৬৮ লক্ষ ৩০ হাজার যুগল। পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে যা ১০.৫ শতাংশ কম। ১৯৮৬ সালের পর থেকে চীনে কোনও বছর এত কম বিয়ে নথিভুক্ত হয়নি। সম্প্রতি এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে এনেছে বেইজিং।
চীনে বিয়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়েছিল ২০১৩ সালে। সে বছর ১ কোটি ৩০ লক্ষ যুগল বিয়ে করেছিলেন। তারপর থেকেই বিয়ের নথিভুক্তি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন
শুধু বিয়ে নয়, চীনে ক্রমাগত কমছে জন্মহারও। ২০২২ সালে প্রতি ১০০০ জনে জন্মহার ছিল মাত্র ৬.৭৭ জন। ১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্ট পার্টির সূচনালগ্ন থেকে এমন পরিসংখ্যান কখনও দেখা যায়নি।
জন্মহার কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে চীনের জনসংখ্যাতেও। ২০২২ সালে দেশটির জনসংখ্যা নজিরবিহীন ভাবে কমে গেছে। ১৪০ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে ভারতের চেয়ে এক ধাপ নেমে গিয়েছে চীন। তারা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ (ভারতের পরে)।

এদিকে সন্তান জন্মদানে জনগণকে উৎসাহিত করতে নজীরবিহীন প্যাকেজ ঘোষণা করেছে জাপান সরকার। সন্তান জন্মদান এবং লালন-পালন বাবদ দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রণোদনা দিয়েছে ফুমিও কিশিদা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) শিশু বিষয়ক এই প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা। যাতে সন্তান জন্ম থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত লেখাপড়ার একটা বড় ব্যয়ভার বহন করবে সরকার। ২০৩০ সাল নাগাদ এ প্রণোদনা দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা।

২০২২ সালে জাপানে জন্ম নিয়েছে মাত্র ৭ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৭ জন শিশু। জন্মহার অনুযায়ী যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। অথচ ৫০ বছর আগে অর্থাৎ ৭০ এর দশকেও এ সংখ্যা ছিল ২০ লাখের বেশি।
মূলত জীবন যাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে বিয়ে ও সন্তান জন্মদানে ব্যাপকভাবে অনিহা তৈরি হয়েছে জাপানিদের মধ্যে। ফলে এরইমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ জনসংখ্যার দেশে পরিণত হয়েছে জাপান। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছে দেশটির নীতিনির্ধারকরা।
সূত্র: রয়টার্স ও জাপান টাইমস
একে

