৯০ দশকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী কঙ্গো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩২৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধে করতে হবে উগান্ডাকে। বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের আদালতে এক রায়ে এ অর্থ পরিশোধের আদেশ দেয়া হয়।
১১৯ পৃষ্ঠার রায় অনুযায়ী উগান্ডার সৈন্যরা প্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে (ডিআরসি) আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। এর আগে ২০০৫ সালেও প্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে সংগঠিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে উগান্ডাকে ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক আদালত।
রায়ে ক্ষতিপূরণকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করেছে জাতিসংঘের আদালত। ‘মৃত্যু এবং অন্যান্য ক্ষতি’ বাবদ ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে প্রায় ২২৫ মিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে ধর্ষণ, শিশু সৈন্য নিয়োগ এবং প্রায় ৫ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুতির ক্ষতিপূরণও অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া সম্পত্তির ক্ষতির জন্য ৪০ মিলিয়ন এবং উগান্ডার সেনাবাহিনী ও তাদের সমর্থিত বিদ্রোহীদের দ্বারা স্বর্ণ, হীরা, কাঠ এবং অন্যান্য পণ্য লুণ্ঠনসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতির জন্য ৬০ মিলিয়ন ধার্য করা হয়েছে রায়ে।
খাবারের অভাবে ঘাস খাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোতে
ক্ষতিপূরণের জন্য ধার্যকৃত অর্থ প্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর দাবির চেয়ে অনেক কম। উত্তর-পূর্ব ইতুরি অঞ্চল দখল এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি হিসেবে ১১ বিলিয়র ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল দেশটি।
কঙ্গো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল প্রজাতন্ত্রী কঙ্গো। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর হেগ-ভিত্তিক আদালতের এই রায়টি ডিআরসি-এর জন্য একটি ধাক্কা। বাস্তব ক্ষতির পরিমাণ ৩২৫ মিলিয়ন ডলারের কয়েক’শ গুন বেশি।
কঙ্গোর খনিজ সমৃদ্ধ ইতুরি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণের জন্য ৯০ দশকের শেষে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় উগান্ডা এবং রুয়ান্ডা। যুদ্ধে ছড়িয়ে পরে আফ্রিকার নয়টি দেশে। ডিআরসির দাবি যুদ্ধে অন্তত ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। যুদ্ধটিকে ‘আফ্রিকার মহাযুদ্ধ’ বলেও অভিহিত করা হয়।
সূত্র: আলজাজিরা
টিএম




