ইরানে ৯ ইউরোপীয় গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ পিএম
ইরানে ৯ ইউরোপীয় গ্রেফতার
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ চলছে ইরানে

ইরানে নিরাপত্তা হেফাজতে তরুণীর মৃত্যুর জের ধরে শুরু হওয়া বিক্ষোভের মধ্যেই গোয়েন্দারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অন্তত নয় জন নাগরিককে আটক করেছে। যাদের আটক করা হয়েছে তারা 'বিদেশি সংস্থার গুপ্তচর' এবং চলমান বিক্ষোভের পেছনে তাদের হাত আছে কিংবা তারা এই বিক্ষোভে জড়িত বলে মনে করছে ইরান।

বিবিসির খবরে এমন তথ্য দিয়ে জানানো হয়েছে, দেশটিতে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সহিংসতা কমে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এবং মৃত্যুর সংখ্যাও প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

নিরাপত্তা হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাশা আমিনি নিহত হবার পর রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। 

এদিকে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেননি যে ইউরোপিয়ান ওই নয় জন নাগরিককে কোথা থেকে আটক করা হয়েছে। তবে তারা দশটি উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, বিদেশিদের কিংবা বিদেশে থাকা বিরোধী গোষ্ঠীর ইন্ধন আছে চলমান বিক্ষোভে।

আটক হওয়া এসব ব্যক্তিরা পোল্যান্ড, সুইডেন, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডসের নাগরিক বলে ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

তারা বলছে, জার্মান, ফ্রান্স, ব্রিটিশ ও সুইডিশ দূতাবাসকে তাদের এজেন্টদের চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিলো।

তারা আরও দাবি করেছে যে, বিক্ষোভ চলার সময় এবং এর আগেও কয়েকবার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে হয়তো আন্দোলন তৈরি কিংবা বিশৃঙ্খলাকে উষ্কে দেয়ার জন্য। এর মধ্যে ছিলো সাইবার হামলা এবং 'ভুয়া সংবাদ' ছড়ানো।

মাশা আমিনির পরিবারের বিশ্বাস যে তাকে কর্মকর্তারা মারধর করেছেন। তবে পুলিশ বলছে তিনি হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।

এরপর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিক্ষোভ ও সহিংসতায় বেশ কিছু মানুষের মৃত্যুর পর দেশটি এসবের জন্য 'বিদেশি শত্রুদের' দায়ী করে আসছে।

নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস সবশেষ যে হিসাব দিয়ে টুইটারে পোস্ট করেছে তাতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৮৩ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে শিশুও আছে।

শুক্রবার দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় সিসতান-বালুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী জাহেদানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে আরও নয় জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিহতদের মধ্যে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের একজন কর্নেলও আছেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপি খবর দিয়েছে। কিন্তু এটি পরিষ্কার নয় যে এই সংঘর্ষের সঙ্গে চলমান বিক্ষোভের কোনো সম্পর্ক আছে কি না। 

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে আঞ্চলিক গভর্নর হোসেইন খাইবানি বলেছেন, 'নয় জন নিহত হয়েছে এবং কুড়ি জন আহত হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রাদেশিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা কর্নেল আলী মৌসাভিও নিহতদের মধ্যে আছেন।'

সিসতান-বালুচিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত আছে। এই এলাকায় মাদক চোরাচালানীরা সক্রিয়। সংখ্যালঘু বালুচ ও সুন্নি মুসলিমদের চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে এখানে সংঘর্ষ হয়ে থাকে।

একে