রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মোড়, কোনদিকে ভবিষ্যৎ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৩৩ পিএম
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মোড়, কোনদিকে ভবিষ্যৎ?

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার টানা ২১৯ দিনে গড়িয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। দীর্ঘ এই সময়েও দেশদুটির মধ্যে চলা এই সংঘাত থামার যেন কোনো লক্ষণ নেই! উল্টো পূর্ব ইউক্রেনে সম্প্রতি এই যুদ্ধ আরও জোরদার হয়েছে। চলছে উভয় পক্ষের তুমুল গোলাবর্ষণ। এমনকি যুদ্ধে লড়তে ইতোমধ্যেই নতুন করে আরও প্রায় তিন লাখ সেনাও প্রস্তুত করছে রাশিয়া। যার মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই প্রথম এত বড় সেনা সমাবেশ করতে যাচ্ছে দেশটি।

দুই দেশের এই সংঘাত ইতোমধ্যেই অসংখ্য প্রাণ কেড়েছে। সেই সঙ্গে ঘরছাড়া হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। শুক্রবারও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে অন্তত ২৫ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। সেই অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন।

যদিও ফেব্রুয়ারিতে যে প্রত্যয় নিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করেছিল তা এখনও অধরাই। সেই সঙ্গে অপূর্ণই রয়েছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখলের মাধ্যমে সেখানে ‘পুতুল সরকার’ বসানোর পুতিনের ‘খায়েস’। তবে লক্ষ্য ভেদ করতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভ্লাদিমির পুতিন। অব্যাহত হামলা চালানোর পাশাপাশি নতুন লড়াকু নিয়োগ দিয়ে এই প্রত্যাশা পূর্ণ করতে চান তিনি।

Warইতোমধ্যেই লক্ষ্য অনুযায়ী অগ্রসর হয়ে কিয়েভের বেশকিছু অঞ্চল দখলেও নিয়েছিল রাশিয়া। তবে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে গত এপ্রিলে রাজধানীর ওইসব এলাকা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয় ইউক্রেনীয় বাহিনী। এরপরই পূর্বাঞ্চলীয় শহর সেভেরোডোনেটস্কসহ পুরো ডনবাসের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে রাশিয়া। সেই সঙ্গে ইউক্রেনে হামলাও জোরদার করে। অবশ্য, এর ফলও পেয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের বেশকিছু অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছেন তারা।

এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনের লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন পুতিন। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত যে ফেডারেল অ্যাসেম্বলি রাশিয়ার চারটি নতুন অঞ্চল, রুশ ফেডারেশনের চারটি নতুন অংশকে সমর্থন করবে... কারণ, এটা লাখ লাখ মানুষের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।’

এই অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় রুশ প্রেসিডেন্ট পশ্চিমা বিশ্বকে ‘লোভী’ আখ্যা দিয়ে আরও বলেছেন, তারা রাশিয়াকে ‘উপনিবেশ’ বানাতে চায়। এ কারণেই পশ্চিম দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালাচ্ছে।

এদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে নিজেদের বলে ঘোষণা দিলেও রুশ বাহিনীকে পরাজিত করার প্রত্যয়ে এখনও অনড় ভলোদিমির জেলেনস্কি। শুক্রবার পুতিনের এমন ঘোষণায় টেলিগ্রামে এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেছেন, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটে (ন্যাটো) দ্রুতই যোগ দিতে চায় ইউক্রেন। এ জন্য ন্যাটোর কাছে আবেদনও করবে কিয়েভ।

War

জেলেনস্কি বলেছেন, ন্যাটোতে দ্রুত যোগদানের জন্য ইউক্রেনের পক্ষ থেকে একটি আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা ইতোমধ্যে জোটের সঙ্গে আমাদের সামঞ্জস্যতা প্রমাণ করেছি। আমরা একে অপরকে বিশ্বাস করি, আমরা একে অপরকে সাহায্য করি এবং একে অপরকে রক্ষা করি। এটাই জোট।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে নিজেদের বলে দেওয়া পুতিনের ঘোষণার পর রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দেশটির সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, রুশ আর্থিক অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন নেতা, রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য ও দেশটির আইনসভার ২৭৮ সদস্যকে লক্ষ্য করে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব রাজনীতিকদের শঙ্কা- পশ্চিমা বিশ্বের নানা নিষেধাজ্ঞা এবং এই সংঘাতের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকটের পরও সহসাই থামছে না দুই দেশের এই যুদ্ধ। বরং ক্রমেই আরও ভয়াবহ হতে চলেছে। শুক্রবারের পর দুই পক্ষই আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

তারা আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইতোমধ্যেই জেলেনস্কি ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের কথা জানিয়েছেন। এরমধ্যে শুক্রবার রাশিয়ার এমন ঘোষণার পর ইউক্রেনীয় বাহিনী ওইসব ভূখণ্ডে অভিযান চালিয়ে আরও জমি ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার করবে। এতে প্রশ্ন উঠবে পুতিনের কর্তৃত্ব নিয়ে। আর এমন পরিস্থিতিতে পুতিন যদি তাঁর হুঁশিয়ারিকে সত্য প্রমাণ করে ইউক্রেনের ওপর ছোট আকারের পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করে বসেন, তার পরিণতির ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি, ডয়েচে ভেলে, এপি।

/আইএইচ