বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় যোগ্য সব আবেদনকারীর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নাগরিকত্ব সনদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার আরাংঘাটায় একটি কালীপূজার মণ্ডপ উদ্বোধন করতে গিয়ে এ ঘোষণা দেন শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি জানান, নদিয়া ও পার্শ্ববর্তী উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সিএএর আওতায় নাগরিকত্বের জন্য প্রায় আড়াই লাখ আবেদন জমা পড়ে আছে। এসব জেলার সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে এবং সেখানে বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষের উল্লেখযোগ্য বসতি রয়েছে।
শুভেন্দু বলেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সিএএর আওতায় যোগ্য সব আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে। কোনো যোগ্য আবেদনকারীকে বাদ রাখা হবে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁদের নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হবে।
মূখ্যমন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তার সরকার প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের (ডিএম) স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দেশটির সংসদে পাস হয়। এই আইনে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া মুসলিম ছাড়া অন্যান্য নির্দিষ্ট ছয়টি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সম্প্রদায়গুলো হলো—হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিষ্টান।
এর আগে গত ১ নভেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে আন্তর্জাতিক মাতুয়া গোসাঁই সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েও ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ আবেদন নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
তখন তিনি পশ্চিমবঙ্গে সিএএর আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে দাবি করেন।
শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সিএএ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেনি। ফলে বহু আবেদন দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। তবে তার সরকারের উদ্যোগে এবার এসব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এমএইচআর




