শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

শিশুদের পর্নোগ্রাফির অভিযোগে প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

শিশুদের পর্নোগ্রাফির অভিযোগে প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর গ্রেফতার
থমাস মার্কেল

শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও রাখার অভিযোগে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর থমাস মার্কেলকে গ্রেফতার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে ৮২ বছর বয়সী থমাস মার্কেলকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত অবৈধ ছবি সংরক্ষণের অভিযোগে একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফিলিপাইন ও মেক্সিকোতেও তদন্তের সূত্র পাওয়া গেছে। 

ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত ছবি রাখার একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। 

তদন্তকারীদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় ভাড়া নেওয়া দুটি স্টোরেজ ইউনিটে এসব সামগ্রী সংরক্ষণ করতেন।

মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিকে বলা হয়, ওই দুটি স্টোরেজ ইউনিটে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭৮টি সামগ্রী জব্দ করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। এর মধ্যে স্লাইড, ৩৫ মিলিমিটার ফিল্মের নেগেটিভ এবং বই রয়েছে। এসব সামগ্রীর মধ্যে শিশুদের যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত ছবি থাকার অভিযোগ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্তকারীদের দাখিল করা হলফনামায় বলা হয়েছে, জব্দ করা কিছু ছবিতে থমাস মার্কেলকে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সঙ্গে দেখা গেছে বলে একজন সাক্ষী শনাক্ত করেছেন। 

ফেডারেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০০৮ সাল থেকে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের ওই স্টোরেজ ইউনিট দুটি ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করছিলেন। তদন্তকারীরা ফিলিপাইনে তার সাবেক বাসভবনে একই ধরনের উপকরণ থাকার তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে তদন্ত শুরু করেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, থমাস মার্কেলকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয় ফিলিপাইনে। তিনি কিছু সময় দেশটির সেবু শহরে বসবাস করেছিলেন। 

গত মাসে তার ছেলে থমাস মার্কেল জুনিয়র বাবার সাবেক বাসভবনে থাকা কিছু বাক্স ও কম্পিউটার সরঞ্জাম ঘাঁটতে গিয়ে শিশুদের যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত ছবি পাওয়ার দাবি করেন। পরে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।

এ ঘটনায় ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরাও বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামেন। মেক্সিকোতে থমাস মার্কেলের ভাড়া নেওয়া একটি স্টোরেজ ইউনিটেও এ ধরনের উপকরণ পাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।

এদিকে থমাস মার্কেল শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও অসুস্থ মানসিকতার মানুষের ছড়ানো অপপ্রচার বলে অভিহিত করেছিলেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, এফবিআইয়ের তদন্ত শুরু হয় গত অক্টোবর মাসে। ফিলিপাইনে সন্দেহজনক উপকরণ পাওয়ার তথ্য জানার পর সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য ফেডারেল অপরাধের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে। 

এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এফবিআই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

গ্রেফতারের পর তাকে ফ্লোরিডার টাম্পায় ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক তাকে ইলেকট্রনিক নজরদারি ও গৃহবন্দিত্বের শর্তে জামিনে মুক্তি দেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে থমাস মার্কেলের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। 

প্রসঙ্গত, থমাস মার্কেলের সঙ্গে মেয়ে মেগান মার্কেলের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্ন। ২০১৮ সালে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে মেগানের বিয়ের সময় থেকেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। থমাস মার্কেল ওই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন না।

গত মাসে বাবার বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত ছবি রাখার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর মেগান বলেছিলেন, বিষয়টি তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। 

তিনি আরও জানান, নিজের সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই বাবার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন।

সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন 

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর