বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন আল-সাইয়েদ, ঠেকাতে পারলেন না ট্রাম্প!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন আল-সাইয়েদ, ঠেকাতে পারলেন না ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সব থেকে বেশি আলোচিত মিশিগান সিনেটর নির্বাচনে ভোট গণনার প্রাথমিক হিসাবে শক্ত ব্যবধানে এগিয়ে আছে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল আল-সাইয়েদ।

মিশিগানে ভোট গণনার রাত যত এগোচ্ছে ততই এই ৪১ বছর বয়সী রাজনীতিবিদের সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন তিনি। 

মার্কিন গণমাধ্যমের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আনুমানিক ৭০ শতাংশ ভোট এসেছে। এল-সায়েদ পেয়েছেন ১৭ লাখ ৮২ হাজার ৪৬৪ ভোট, যা গণনা সম্পন্ন হওয়া ভোটের ৫১.৬ শতাংশ। রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স পেয়েছেন ১৬ লাখ ৫ হাজার ৭০৭ ভোট(৪৬.৪৪ শতাংশ)।

ব্যবধান বিবেচনায় ইতিমধ্যেই আল-সাইয়েদের জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মার্কিন মার্কিন শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো প্রচার করতে শুরু করেছে। 

আব্দুল এল সায়েদের সিনেট নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক জয়যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। সায়েফ ডেমোক্র্যাটসদের নিজস্ব নির্বাচনে জয় পেয়ে আজকের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

তবে এই লড়াইয়ে তিনি শুরু থেকেই ব্যাপক বাধার মুখে পড়েছেন। সর্বশেষ তার নিজ দলের পার্লামেন্টেরিয়ান হ্যালি স্টিভেনস তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে। 

হেলি ডেমোক্র্যাটসদের প্রাইমারি নির্বাচনে আল-সাইয়েদের কাছে হেরেছেন। ফলে তিনি সিনেটর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। 

সাধারণত নিজ দলের প্রার্থীকে সমর্থন জানানোর কথা থাকলেও তিনি বিরোধী দলের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। তাতেও অবশ্য বিচলিত হননি সায়েদ। উজ্জীবিতভাবেই চালিয়ে গিয়েছিলেন শেষ মুহূর্তের প্রচারণা 

শুরু থেকে তার ধর্ম পরিচয়কে টার্গেট করেও বিভিন্ন বিদ্রুপ মন্তব্য করতে থাকে বিপক্ষ শিবির। খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তার বিরুদ্ধে কটাক্ষে ছিলেন সরব। তাকে 'জঙ্গি' ও 'জিহাদি' তকমা দেওয়া হয়।

মিশিগানের অপর্যাপ্ত  স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সমস্যা নিয়ে সরব সায়েদের জনপ্রিয়তা তাতেও খুব একটা কমেনি। প্রচারণাকালে তিনি বারবার বলেছিলেন, মুসলিম সিনেটর হতে তিনি দাঁড়াননি, মিশিগানের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে দাঁড়িয়েছেন।

প্রসঙ্গত, মার্কিন কংগ্রেসের দুই অংশ—প্রতিনিধি পরিষদ আর সিনেট। সিনেট যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার উঁচু কক্ষ। দেশের ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সিনেটর। মেয়াদকাল হয় ছয় বছর। প্রতি দুই বছর পর এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়, যাতে পুরো কক্ষ একসঙ্গে খালি না হয়।

উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন হয় পঞ্চাশ সিটের। ২০২৪ সালের নির্বাচনে যেটি ছিল রিপাবলিকানদের(৫৩) দখলে।

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের ভয়াবহ ভরাডুবিতে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। স্মরণীয় নির্বাচনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৪ টি সেট নিশ্চিত করেছে ডেমোক্রেটরা।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর