মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যেই ফলই হোক না কেন সেটা মেনে নেবেন। এমনকি বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করতেও আপত্তি নেই।
নিবার্চনের মধ্যেই দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের ফল মেনে নিতে তিনি ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’। আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় থাকব। সম্ভবত আমরা কোনো একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারব।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা এমন কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছেন, যেগুলোকে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এসব ফলের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে।
নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে আগামী দুই বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম কতটা নির্বিঘ্নে এগোবে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ও তদন্তের সুযোগও বাড়বে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ২৪৮টি আসন পেতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১৮৭টিতে। এর মধ্য দিয়ে নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাচ্ছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।
সিনেটেও বড় অগ্রগতি হয়েছে দলটির। নির্বাচনে পাঁচটি আসন বাড়িয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। টেক্সাস, কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আসন ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। এর ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণও দলটির হাতে যাচ্ছে।
টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে হারিয়েছেন। প্রায় তিন দশক পর অঙ্গরাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পেলেন। কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন। অন্যদিকে ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার জয় পেয়েছেন।
আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে নতুন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে। ফলে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে রিপাবলিকানদের।
এআরএম




