যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে, তা নির্ধারণে দেশজুড়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যে সবার আগে ভোটকেন্দ্র খোলার মধ্য দিয়ে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে পর্যায়ক্রমে নিউজার্সি, ভার্জিনিয়া ও কানেকটিকাটসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরের আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক নীতি বাস্তবায়নে এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়, তবে অভিবাসন, করনীতি ও বিচার বিভাগীয় নিয়োগসহ ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলো আইনসভায় প্রবল বাধার মুখে পড়বে। ফলে এটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। এর পাশাপাশি দেশের ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। মূল ভোট শুরুর আগেই রেকর্ডসংখ্যক মার্কিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ২১ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ নাগরিক ডাকযোগে ও সশরীরে আগাম (আর্লি ভোটিং) ভোট দিয়েছেন।
ভোটারদের কাছে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে প্রভাবশালী ইস্যু হয়ে উঠেছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সার্বিক অর্থনীতি।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোয় দেখা গেছে, দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও অধিকাংশ সাধারণ ভোটার মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকোচনকেই মূল অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ ছাড়া ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইং ভোটার’ বা দোদুল্যমান ভোটার হিসেবে লাতিনো বা হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর ভূমিকা অন্যতম চালিকাশক্তি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচন প্রক্রিয়া অবাধ ও সুষ্ঠু রাখতে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) ৫০টি অঙ্গরাজ্যে রেকর্ড এক হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। তবে ভোটের দিনে ফ্লোরিডায় অতিবৃষ্টিজনিত আকস্মিক বন্যার কারণে অন্তত ১৯টি ভোটকেন্দ্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
এলএ




