চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ৪০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইসরায়েলকে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগে এ সহায়তা বন্ধের বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে নেতানিয়াহু ও আমার মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। আমরা প্রতিবছর ইসরায়েলকে ৪০০ কোটি ডলার দিই। কয়েক মাস আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটি বন্ধ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে একমত হয়েছি যে বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে আর অর্থ দেওয়া হবে না। তবে তাদের প্রয়োজন হলে আমরা সহায়তা করব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইসরায়েল এখন অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী একটি দেশ। ফলে দেশটির আগের মতো মার্কিন আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল একটি সফল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এবং নিজেদের প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম কেনার সক্ষমতাও তাদের রয়েছে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, মার্কিন সহায়তা বন্ধ হলেও ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারবে। একই সুবিধা ইউরোপের দেশগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক সহায়তা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত ১০ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর রয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩০ কোটি ডলার বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন এবং ৫০ কোটি ডলার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দ।
তবে ট্রাম্প ঠিক কোন ধরনের অর্থায়ন বন্ধের কথা বলেছেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিশেষ করে ২০২৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা বর্তমান সামরিক সহায়তা চুক্তি আগাম বাতিল করা হবে, নাকি নতুন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থায়ন বন্ধ করা হবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
এর আগে গত মে মাসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, আগামী এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চান তিনি।
এছাড়া গত জুন মাসে এক মার্কিন আইনপ্রণেতাকে লেখা চিঠিতেও ইসরায়েলকে সহায়তা গ্রহণকারী দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন নেতানিয়াহু।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স
এমএইচআর




