ইরানে চলতি বছরের শুরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে চার পুলিশ সদস্যকে হত্যার অভিযোগে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইরানের বিচার বিভাগের সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইন জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় ইসফাহান শহরে তাদের ফাঁসি দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তির নাম- আমির হোসেইন মালেকি ও আমির হোসেইন এব্রাহিমি। তাদের দুজনের বয়সই ২০ বছর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ইসফাহানের আলিখানি স্কয়ারে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য নিহত হন। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মালেকি ও এব্রাহিমিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত।
ইরানের বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় অভিযুক্তরা অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং ইসলামি শরিয়া আইনের ‘মুহারেবা’ (আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা) ও ‘পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি’-এর মতো গুরুতর অপরাধে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
আসামিরা আপিল করেছিলেন৷ আপিলের পর তাদের মামলাগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ আইনি পর্যালোচনা হয়৷ সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই দণ্ড কার্যকর করা হয় বলেও জানায় ইরানের বিচার বিভাগ।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, দুই ব্যক্তির বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্যাতন, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
এরআগে একই মামলায় গত অক্টোবরের শুরুর দিকে আলিরেজা সেপাহি এবং আলিরেজা রাইসি নামের আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল ইরানের কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইরানে অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এসব আন্দোলন সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। এতে বহু প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ২২ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, চীনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ ইরান। দেশটিতে হত্যা, ধর্ষণ ও গুপ্তচরবৃত্তির মতো অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সাধারণত ভোরবেলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সূত্র: রয়টার্স, আশরাক আল-আসওয়াত
এমএইচআর




