মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

হিমালয়ে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা, ঝুঁকিতে ৩ লক্ষাধিক মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ এএম

শেয়ার করুন:

হিমালয়ে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা, ঝুঁকিতে ৩ লক্ষাধিক মানুষ
নেপালে হিমালয় অঞ্চলে বিপুল সংখ্যায় বেড়েছে নির্মাণকাজ

দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও নবীন ভঙ্গিল পর্বতমালা হিমালয় অঞ্চল। এর কিছু অংশে তিন লাখেরও বেশি মানুষ এমন এলাকায় বসবাস করছেন, যেখানে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানাচ্ছে নতুন একটি গবেষণা।

গবেষকেরা দেখেছেন, উত্তর নেপাল, দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বতের কিছু অংশ এবং ভারতের উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন অংশে নির্মাণকাজ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অংশগুলো বিপর্যয়প্রবণ বলে চিহ্নিত। এসব এলাকায় ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভবন ও অন্যান্য স্থাপনায় ঢেকে যাওয়া জমির পরিমাণ প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।

সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে প্রকাশিত এই গবেষণাটি পিয়ার রিভিউ বা এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নন এমন বিশেষজ্ঞদের দ্বারাও পর্যালোচিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হিমবাহ থেকে তৈরি হ্রদ থেকে সৃষ্ট বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে নির্মাণকাজ আরও দ্রুত বেড়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এসব এলাকায় নির্মাণ প্রায় ৭৮ শতাংশ বেড়েছে।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ঝুঁকিতে থাকা মানুষের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। কারণ, গবেষকরা শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল নিয়ে গবেষণা করেছেন। আশপাশের একই ধরনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

নেপালে গত আগস্টে ভয়াবহ বন্যার আগেই এই গবেষণা করা হয়েছিল। ওই বন্যায় ১,৪০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ হন। এর পরও বেশ কয়েকটি ছোট ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১১ অক্টোবর বুধি গণ্ডকি নদীতে আসা বন্যাও রয়েছে। ওই বন্যায় ২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পাঁচটি সেতু ভেসে যায় এবং পাঁচজন নিখোঁজ হন।

নদীর তীরবর্তী ভবনগুলো সরানোই চ্যালেঞ্জ

ব্রিটেন, নেপাল ও ভারতের নয়জন গবেষক হিমালয়ের নদীগুলোর তীর থেকে ৫০ কিলোমিটার বা ৩০ মাইল পর্যন্ত এলাকা এবং প্রায় ১,৩৬০টি হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের আশপাশের অঞ্চল নিয়ে গবেষণা করেছেন। তারা দেখেছেন, এসব এলাকায় ব্যাপক হারে নির্মাণকাজ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যটন পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ, অন্যান্য রকমের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আবাসন নির্মাণ।

এর একটি উদাহরণ নেপালের পোখরা। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই শহরটি পর্যটনের একটি বড় কেন্দ্র। গত ৩০ বছরে সেখানে পর্যটকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সম্প্রসারিত হয়েছে শহরও।

পোখরার মেয়র ধনরাজ আচার্য বলছেন, শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া সেতি গণ্ডকি নদী থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকি মোকাবিলা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। অন্নপূর্ণা পর্বতমালা থেকে নেমে আসা নদীটি পুরো শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তিনি জানান, ‘নদীর তীরে অনেক পুরোনো ভবন রয়েছে, যেগুলো নদী থেকে মাত্র পাঁচ মিটার বা ১৬ ফুট দূরে নির্মিত। অথচ নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভবনগুলো নদী থেকে আরও দূরে নির্মাণ করার কথা। এই ভবনগুলো কোথায় সরিয়ে নেওয়া হবে এবং কীভাবে সেখান থেকে সরানো হবে, আসল চ্যালেঞ্জ সেটাই।’

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় অন্নপূর্ণা ট্রেকিং এলাকা পোখরার উত্তরে অবস্থিত। সেখানেও নদীর তীরে বসতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এসব বসতির কয়েকটি সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়েছে। সেখানে হোমস্টে (কোনো পরিবার বা ব্যক্তির বাড়িতে অর্থের বিনিময়ে থাকার ব্যবস্থা) চালান ফুরপা শিরিং লামা। পরিস্থিতির সামনে নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে তার। 

সাধারণত বছরের এই সময়ে ট্রেকিংয়ের ভরা মৌসুম থাকে। শিরিং লামার ২০টি কক্ষের সবই অতিথিতে পূর্ণ থাকে। কিন্তু এখন মাত্র পাঁচটি কক্ষে অতিথি রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা এই ব্যবসা করছি। কিন্তু এমন দুর্যোগ আগে কখনো দেখিনি।’

মোদি নদীর কাছে হোটেল চালান কৃষ্ণ গৌচন। তিনিও উদ্বিগ্ন। কারণ এই নদীর পানির উৎস, হিমবাহ থেকে নেমে আসা বরফগলা জলের ধারা। তিনি বলেন, ‘হিমবাহ বিস্ফোরণ হলে কিংবা হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের জল হঠাৎ বেরিয়ে এলে এই নদীতে বন্যা হতে পারে। আমরা সব সময় এই আশঙ্কার মধ্যেই থাকি।’

ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটির একটি স্থানীয় ক্যাম্পাসের ভূগোলের শিক্ষক খগেন্দ্র পৌডেল বলছেন, পর্যটন খাতে বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ এসব জায়গার ঝুঁকি বিবেচনা না করেই সেগুলোকে পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরছেন। উত্তর ভারতের হিমালয় অঞ্চলের উপত্যকাগুলোতেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ ধর্মীয় তীর্থযাত্রায় যান।

হোটেল অ্যাসোসিয়েশন পোখরার সভাপতিও মনে করেন, এই অঞ্চলে পর্যটন ব্যবসার প্রসার হয়েছে ‘কোনো সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই’। এছাড়া পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে জায়গাগুলোকে ‘অপরিকল্পিতভাবে’ তুলে ধরা হয়েছে।

লক্ষ্মণ সুবেদি বলেন, ‘দুর্যোগ যখন আসে, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।’ তিনি জানান, হোটেল অ্যাসোসিয়েশন সাংগঠনিকভাবে পর্যটন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের এসব ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করছে।

তবে শুধু পর্যটনের কারণেই ঝুঁকি বাড়ছে না। ভোটেকোশি ও ত্রিশূলি নদীর আশপাশের এলাকাতেও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

গবেষণাটির প্রধান লেখক এবং লিডস ইউনিভার্সিটির হিমবাহ বিশেষজ্ঞ সি স্কট ওয়াটসন সতর্ক করে বলেছেন, ‘নদী উপত্যকাগুলোতে জনসংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। উন্নয়ন নিয়ে আজ যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো আগামী কয়েক দশক ধরে দুর্যোগের ঝুঁকিতে প্রভাব ফেলবে।’

গবেষকেরা যতগুলো ভবন ঝুঁকিতে রয়েছে বলে চিহ্নিত করেছেন, বাস্তবে সেই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। গবেষণায় নদী বা হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের জলস্তর থেকে ৫০ মিটার বা ১৬৪ ফুট উচ্চতার মধ্যে থাকা সব ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

কিন্তু ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যার সময় রাসুয়া জেলার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কিছু জায়গায় নদীর জল ৭০ মিটার বা ২৩০ ফুট পর্যন্তও উঠে এসেছিল। ফলে নদীর তীর থেকে বেশ দূরে থাকা ভবনও বন্যার কবলে পড়ে। অনেক ভবন ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে চাপা পড়ে যায়।

জলবায়ু পরিবর্তন বাড়িয়ে তুলছে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

এসব এলাকার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ হিমালয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বের গড়ের তুলনায় এখানে তাপমাত্রা বাড়ছে দ্বিগুণ গতিতে। এর ফলে হিমবাহ, বরফে ঢাকা প্রান্তর, তুষারের স্তর এবং সারা বছর জমে থাকা বরফ দ্রুত গলছে।

এতে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এসব এলাকায় প্রায়ই ভূমিকম্পও হয়। এমন পরিস্থিতিতে পাহাড় থেকে ধ্বংসাবশেষ নেমে আসা এবং এ ধরনের অন্য ঘটনায় নিচের জনবসতিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

বরফ দ্রুত গলে যাওয়ায় হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদগুলোতে পানি জমে সেগুলোর আকার বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পানির চাপ সামলাতে না পেরে হ্রদ ভেঙে গেলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। নেপালে ১৯৪০ সাল থেকে এ পর্যন্ত এমন প্রায় ৩০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

আরেকটি সমস্যা হলো, তাপমাত্রা বাড়ায় উঁচু পার্বত্য এলাকাতেও এখন বৃষ্টি হচ্ছে, যেখানে আগে শুধু তুষারপাত হতো। এতে পাহাড়ের ঢাল ধসে পড়া এবং বড় বড় পাথর ও বরফের খণ্ড নিচে নেমে আসার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যে সংকট তৈরিতে নেপালের কোনো ভূমিকা নেই, তার জন্য দেশটিকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হচ্ছে।

বালেন শাহ বলেন, ‘প্রতিটি বড় দুর্যোগ বছরের পর বছর ধরে করা উন্নয়নের কাজ মুছে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। আর যে ক্ষতির জন্য একটি দরিদ্র দেশ দায়ী নয়, সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতেও তাকে ঋণ নিতে হয়।’

কলোরাডো ইউনিভার্সিটির পার্বত্য ভূগোল বিশেষজ্ঞ এল্টন বায়ার্স এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও তার মতে, গবেষণাটি আরও উন্নত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করতে পারে।

তবে কাজটি সহজ হবে না। এ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, নির্মাণসংক্রান্ত নিয়মকানুন বাস্তবে ঠিকমতো প্রয়োগ করা হয় না। অনেক এলাকায় বছরের পর বছর ধরে যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই নির্মাণকাজ হয়েছে।

নেপাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ও নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সূর্য রাজ আচার্যের মতে, নদীতীরের নিচু ও সমতল জমিতে দ্রুত গড়ে উঠেছে সড়ক, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, হোটেল ও বাজারকেন্দ্রিক জনপদ। এসব এলাকায় সহজে যাতায়াত করা যায়, নির্মাণকাজ করাও তুলনামূলক সহজ।

তিনি বলেন, নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রায়ই নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষা করেছেন। এর মধ্যে নদীর তীর থেকে যথাযথ দূরত্ব বজায় রাখার নিয়মও রয়েছে। হিমালয়ের মতো স্পর্শকাতর বাস্তুতন্ত্রে অন্য এলাকার তুলনায় আরও কঠোর পরিকল্পনা ও নির্মাণবিধি প্রয়োজন। তা সত্ত্বেও এখানে নিয়মকানুন দুর্বল ছিল, কিন্তু যতটুকু ছিল ততটুকুও যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।’

নেপালের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন। জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার রাসুয়া-ভোটেকোশি এলাকায় নদীর তীর থেকে ১৫ মিটার বা ৪৯ ফুট এলাকার মধ্যে বসতি স্থাপনের ওপর শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। অন্য নদী উপত্যকাগুলোতেও একই ধরনের নিয়ম শিগগিরই চালু করা হবে।

জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার প্রধান নির্বাহী ধর্ম রাজ উপ্রেতি বলেন, ‘এটি একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। কারণ অনেক জায়গায় মানুষের জমি ও সম্পত্তির সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিও উপেক্ষা করা যায় না।’

পরিবেশ সংক্রান্ত আইন উপেক্ষা করে বিপুল নির্মাণকাজ উত্তরাখণ্ডে

নেপালের পশ্চিম সীমান্তঘেঁষা ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। অ্যাক্টিভিস্ট অনুপ নওটিয়ালের অভিযোগ, অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে সেখানে পর্যটন ব্যবসার প্রসার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ রক্ষায় তৈরি নিয়মকানুন উপেক্ষা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কাগজে-কলমে নদীর তীরে বাড়ি ও অন্যান্য ভবন নির্মাণে নিষেধাজ্ঞার নিয়ম রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এসব নিয়মের প্রয়োগ দেখা যায় না। সব জায়গাতেই অবাধে নির্মাণকাজ হতে দেখা যাচ্ছে।’

বন্যাপ্রবণ এলাকায় জমির ব্যবহার ও নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে উত্তরাখণ্ড সরকার ১২ অক্টোবর নতুন নিয়ম অনুমোদন করেছে। রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ‘এর উদ্দেশ্য হলো বন্যায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি থেকে মানুষের জীবন, সম্পদ ও জরুরি অবকাঠামো রক্ষা করা। একই সঙ্গে বন্যার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখাও এর লক্ষ্য।’

তবে ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটির দুর্যোগ অধ্যয়ন কেন্দ্রের পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারীর মতে, এ ধরনের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তার পরামর্শ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্মাণে মানুষকে উৎসাহিত করতে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী বিমার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি এলাকাগুলোকে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী উচ্চ, মাঝারি ও কম ঝুঁকির শ্রেণিতে ভাগ করে, সে অনুযায়ী বিমার আওতাও নির্ধারণ করা যেতে পারে। এতে নিরাপদ এলাকায় বাড়ি নির্মাণকারীরা আরও ভালো বিমা সুরক্ষা পেতে পারেন। তবে আপাতত এই পুরো অঞ্চলে নির্মাণের গতি কমার কোনো লক্ষণ নেই। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর