বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমে প্রায় চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১১টা ১৭ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮০ দশমিক ৪০ ডলার নেমে এসেছে, যা গত ১৭ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন দাম।
একই সময়ে ডিসেম্বরে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৯১ দশমিক ১০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এ নিয়ে চলতি অক্টোবর মাসে স্বর্ণের দাম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে এবং টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মাসিক দরপতনের পথে রয়েছে মূল্যবান ধাতুটি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির নতুন পরিসংখ্যান এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ফলে স্বর্ণের বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।
ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেছেন, ‘স্বর্ণের দাম দুটি কারণের সংমিশ্রণে প্রভাবিত হয়: প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী মার্কিন জিডিপি তথ্য এবং তেলের দাম বৃদ্ধি, যা ফেডের ওপর সুদের হার আরও বাড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। একই সময়ে ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক (পিসিই), যা মূল্যস্ফীতি পরিমাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক, বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। আগস্টে এ বৃদ্ধির হার ছিল শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। বাজারে ডিসেম্বর মাসে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৭৫ শতাংশ বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। চলতি সপ্তাহে ফেড ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ বিনিয়োগকারীরা তখন সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদে বিনিয়োগ করতে বেশি আগ্রহী হন।
এদিকে শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। শুক্রবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৫০ দশমিক ৫০ ডলার, প্লাটিনামের দাম ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৪৩ দশমিক ৬৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯৮১ দশমিক ডলারে নেমেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




