ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সদস্যদের হত্যার আগে তাদের পরিবারের সঙ্গে অথবা একা মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার বিকল্প দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে।
সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আশরাক আল-আওসাতের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের কর্মকর্তারা ফোন করে হামাস সদস্যদের এমন দুটি বিকল্পের কথা জানাচ্ছেন। হয় পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করে বিমান হামলায় নিহত হতে হবে, নয়তো বাড়ির ছাদে উঠে একা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে অন্তত পাঁচটি ঘটনায় এ ধরনের কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামাসের সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো কয়েকটি হামলার আগে তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন গাজার স্থানীয় সূত্র ও নিহতদের স্বজনেরা।
সৌদি সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সর্বশেষ এমন একটি ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে। গত বুধবার মোহাম্মদ আল-বায়ুক নামের হামাসের এক সদস্য একটি বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রের ছাদে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, হামলার কিছুক্ষণ আগে শিন বেতের এক কর্মকর্তা আল-বায়ুককে ফোন করেন। ফোনে তাকে জানানো হয়, তিনি ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছেন। এরপর তাকে দুটি বিকল্প দেওয়া হয়। পরিবারের সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করলে তাদের সবাইকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা হতে পারে, অথবা তিনি একা ছাদে উঠে গেলে শুধু তাকেই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মোহাম্মদ আল-বায়ুক দ্বিতীয় বিকল্পটি বেছে নেন। তিনি ছাদে উঠে যাওয়ার পর সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয় এবং তিনি নিহত হন। এ সময় তাকে ছাদে যেতে বাধা দিতে গিয়ে তার এক খালা গুরুতর আহত হন বলে আশরাক আল-আওসাতকে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত তার এক আত্মীয়।
গাজার একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অন্তত পাঁচবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। হামাসের অপেক্ষাকৃত নিচু পদমর্যাদার সদস্যদের বিরুদ্ধে এ কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের ক্ষেত্রে ভারী বোমা কিংবা একাধিক বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হচ্ছে।
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত গাজা যুদ্ধ অবসানের ২০ দফা পরিকল্পনায় হামাসের যোদ্ধাদের জন্য সাধারণ ক্ষমার স্পষ্ট প্রস্তাব ছিল। এমনকি হামাসের যেসব সদস্য গাজা ছেড়ে অন্য দেশে যেতে চান, তাদের গাজা থেকে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে হামাস যোদ্ধাদের আত্মসমর্পণ, অস্ত্র ত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছিল।
সূত্র: আশরাক আল-আওসাত, টাইমস অব ইসরায়েল
এমএইচআর




