শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

আদিত্যনাথের ঘোষণায় রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১২ পিএম

শেয়ার করুন:

আদিত্যনাথের ঘোষণায় রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ
যোগী আদিত্যনাথ

আন্দোলনকে ‘নৈরাজ্য’ আখ্যা দিয়ে নতুন সরকারি বিধি চালু করা হয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশে।  হিংসাত্মক উপায়ে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার বদলের আন্দোলনে যুক্তদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ করা হবে না। বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের এই ঘোষণা জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

প্রতিবাদে সংহতি জানিয়ে সমাজবাদী পার্টি বলেছে, ‘ব্রিটিশরা রাজত্ব করার সময় এই ধরনের ফরমান জারি করত। আন্দোলনকারীদের দেশদ্রোহী বলত। স্বাধীন ভারতে আন্দোলন করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। যুব সম্প্রদায়কে চাকরি না দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সরকার সেই অধিকার খর্ব করতে চাইছে। কংগ্রেস বলেছে, বিজেপি ভয় পেয়েছে। তাই এমন ধরনের কালা বিধি জারি করেছে। তারা গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ বলেছেন, তারা বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে প্রেরণা পেয়েছেন। কেউ বলেছেন, এটা ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার বদলের আন্দোলন। বিজেপি ওই সব মন্তব্যকেই হাতিয়ার করেছে। বলছে, হিংসাত্মক আচরণের মধ্য দিয়ে তারা সরকারের পতন ঘটাতে চাইছে।

সেই লক্ষ্যে সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের চরিত্র যাচাই বা ‘ক্যারেক্টর ভেরিফিকেশন’–এর নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার গত বৃহস্পতিবার এই নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ছাড়াও পৌরসভা, পৌর পরিষদ এবং স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থাগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নীতি কার্যকর হবে।

নতুন সরকারি নির্দেশিকাতেও রয়েছে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত। তাতে বলা হয়েছে, প্রচলিত ব্যবস্থাকে হিংসাত্মক উপায়ে পরিবর্তন করা যেসব সংগঠনের ঘোষিত লক্ষ্য, তেমন সংগঠনের সঙ্গে যোগ থাকা প্রার্থীরা সরকারি চাকরির অযোগ্য বলে প্রমানিত হবেন।

রাজ্য সরকারের নিয়োগ ও কর্মীবর্গ দপ্তরের মুখ্য সচিব এম দেবরাজ ওই নির্দেশিকা জারি করে বলেছেন, ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এবং চরিত্র যাচাইয়ের তারিখের পূর্ববর্তী তিন বছরের মধ্যে কেউ যদি এ ধরনের আন্দোলন ও কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তবে ধরে নেওয়া হবে তিনি এখনো সক্রিয়ভাবে ওই সব কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি সরকারি চাকরি পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে ওই তিন বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ ও মনোভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেলে এবং সেই বদলের অকাট্য প্রমাণ মিললে আবেদন পুনর্বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে।

যোগী সরকার অবশ্য জানিয়েছে, শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে অযোগ্য মনে করা হবে না। কিংবা কারও নামে এফআইআর থাকলে বা কারও বিরুদ্ধে কোনো মামলার তদন্ত চলমান থাকলে তাকে অযোগ্য বলে ধরা হবে না। যাঁরা বেকসুর খালাস পেয়েছেন কিংবা আপস মীমাংসার মাধ্যমে যাঁদের মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে অথবা যাদের বিরুদ্ধে জুভেনাইল জাস্টিস আইনে মামলা চলছে সেসব ক্ষেত্রেও প্রার্থীদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য ঘোষিত হবে না।

বহু ক্ষেত্রে চরিত্র যাচাইয়ের রিপোর্ট আসতে দেরি হয়। তেমন ক্ষেত্রে কারও নিয়োগপত্র আটকে রাখা হবে না। সেসব ক্ষেত্রে প্রার্থীরা স্বঘোষণাপত্র বা সেলফ ডিক্লারেশন দিয়ে নিয়োগপত্র পেতে পারবেন। তবে সেই নিয়োগপত্র হবে সাময়িক বা ‘প্রভিশনাল’। চরিত্র যাচাইয়ের রিপোর্ট বিরূপ হলে কিংবা মিথ্যা ঘোষণাপত্র দিয়ে নিয়োগপত্র নেওয়া হয়েছে প্রমাণিত হলে তা বাতিল করা হবে। সে ক্ষেত্রে প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। এই নির্দেশিকার আগে যারা চাকরি পেয়েছেন তাদের চরিত্র নতুনভাবে যাচাই করা হবে না। যদিও সরকারি কর্তারা বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ চাইলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো সফল প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরূপ রিপোর্ট এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে।

এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর