বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ইসরায়েলে ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

শেয়ার করুন:

ইসরায়েলে ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দল
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দল।  দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন থেকে পিছিয়ে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিরোধী জোট—দুই পক্ষই।

বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত পাঁচ মিলিয়নের বেশি ভোট গণনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন।

মঙ্গলবারের ভোটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরবদের দুটি রাজনৈতিক দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা'আম সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল প্রকাশিত হতে পারে। তবে তাতেও কোনো পক্ষ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এখনো পাঁচ লাখের বেশি বিশেষ দ্বৈত-খামযুক্ত ব্যালট গণনা বাকি রয়েছে। এসব ভোটের ফলে আসন বণ্টনে পরিবর্তন আসতে পারে। এই ব্যালটের মধ্যে রয়েছেন সেনাসদস্য, কূটনীতিক এবং নিবন্ধিত ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোট দেওয়া অন্যান্য ভোটারের ভোট।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের পর এটিই দেশটির প্রথম নির্বাচন। ভোটকে নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রিত্বের ওপর একধরনের গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ৭৭ বছর বয়সী নেতানিয়াহু এখনই রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে পড়েছেন, এমনটা মনে হচ্ছে না।

নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর আগামী সপ্তাহে নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

সরকার গঠনের প্রক্রিয়া যেন নতুন নির্বাচনের কারণে আবারও বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানিয়েছেন হারজগ। তবে ইসরায়েলে জোট সরকার গঠনই স্বাভাবিক রাজনৈতিক রীতি। দেশটির ইতিহাসে কোনো দল এককভাবে পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

নির্বাচনের আগে আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে মিলে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন। নেতানিয়াহুও এমন সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা

নেতানিয়াহুর জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেতে যাচ্ছে—এমন পূর্বাভাসের ভিত্তিতে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তিনি আইজেনকটকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। তবে এমন সরকার গঠনের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকট বলেন, তার নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এখন ইসরায়েলে পরিবর্তন আনা এবং একটি জায়নবাদী ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠার গুরুদায়িত্ব পালনে মনোযোগ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ৭ অক্টোবরের সরকার এবং দায়িত্ব এড়িয়ে চলা ব্যক্তিদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। সামগ্রিকভাবে দায়িত্ব এড়িয়ে চলা রাজনৈতিক জোটটিও জনসমর্থনের দিক থেকে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ লিকুদ পার্টির

আরব ভোটারদের রেকর্ডসংখ্যক অংশগ্রহণের মধ্যে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি অভিযোগ করেছে, আরব দলগুলো নির্বাচনে কারচুপি করে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

এক বিবৃতিতে দলটি দাবি করে, ইসরায়েলের নির্বাচনে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনকারী এবং ইহুদি রাষ্ট্রের বিলুপ্তি চায়—এমন আরব দলগুলো ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, জালিয়াতি এবং ভোটারদের সংগঠিত করতে নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধের মাধ্যমে নির্বাচন চুরি করেছে।

লিকুদ পার্টি আরও জানায়, আরব অধ্যুষিত বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে পাওয়া শত শত সাক্ষ্য ও প্রমাণ তারা পুলিশ, শিন বেত নিরাপত্তা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে হস্তান্তর করছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধান আরব রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্ট বুধবার রাতে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ নেতানিয়াহু ও তার জোটকে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি বলে সতর্ক করেছে জোটটি।

জয়েন্ট লিস্টের ভাষ্য, উসকানি ও ভয়ভীতির জবাব ভোটের মাধ্যমে দিয়েছেন ভোটাররা। তারা কথিত ‘কসাইদের সরকার’ এবং এর ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, বর্ণবাদ ও যুদ্ধাপরাধের নীতির বিরোধিতা করেছেন।

জোটটি বলেছে, নির্বাচনে তাদের প্রতি ভোটারদের সমর্থন রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং আরব নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সক্ষম একটি শক্তির প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে। কোনো ধরনের ছাড় না দিয়েই এসব অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার করেছে তারা।

নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো এবং তার প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে জয়েন্ট লিস্ট। বিকল্প সরকার গঠনের উদ্যোগে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছে জোটটি।

জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন বলেছেন, নেতানিয়াহুবিরোধী কোনো সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে তাদের জোট। তবে সেই সরকারের অংশ হবে না তারা। 

সূত্র: আল জাজিরা

এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর