ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ২৬তম নির্বাচন অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে আরব দলগুলো। ১৯টি আসনে জয় পেয়েছে তারা। তবে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দদল লিকুদ পার্টির অভিযোগ, আরব দলগুলো ভোট চুরি ও জালিয়াতি করেছে।
ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তুলেছে তারা। এসব ঘটনার তদন্তে পুলিশ ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নেতানিয়াহুর দল।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে লিকুদ পার্টি দাবি করে, ‘সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনকারী এবং ইহুদি রাষ্ট্রের বিলুপ্তি চাওয়া আরব দলগুলো ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, জালিয়াতি ও ভোটারদের সংগঠিত করতে অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধের মাধ্যমে ইসরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে।’
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং নেসেটে আসন থাকা আরব-প্রধান রাজনৈতিক দল রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট এবার রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে দল দুটি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে, যা তাদের জন্য ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ।
এই আসনসংখ্যার কারণে নেতানিয়াহুর জোট এবং তার বিরোধী ইহুদি-প্রধান দলগুলো- কোনো পক্ষেরই এককভাবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা নেই।
বিবৃতিতে লিকুদ পার্টি জানায়, তারা পুলিশ, শিন বেত ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে ‘শত শত সাক্ষ্য’ এবং অন্যান্য প্রমাণ জমা দিচ্ছে। এসব প্রমাণের মধ্যে রয়েছে ‘নগদ অর্থ ও রা’আমের প্রতীকসংবলিত হাজারো খাম, ভোটকেন্দ্রের কমিটির সদস্যদের হুমকি ও তাদের ওপর সহিংসতা, ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষে একাধিক ভোটারের উপস্থিতি, একাধিকবার ভোট দেওয়া, ভোটারসংখ্যার সঙ্গে ব্যালটের খামের সংখ্যায় অসঙ্গতি এবং ভোটারদের সংগঠিত করতে অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহারের’ অভিযোগ।
লিকুদ পার্টি অভিযোগগুলোর ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত’ দাবি করেছে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে তদন্তের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছ থেকে অবিলম্বে জবাব চেয়েছে দলটি।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ও বিরোধী শিবির গাদি আইজেনকোটের দল—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলের আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দাবি। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব নাগরিক। তাদের পূর্বপুরুষদের বড় অংশ ফিলিস্তিনি হলেও তারা ইসরায়েলের নাগরিক এবং জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।
কিন্তু এসব নাগরিকদের ইসরায়েলের ইহুদিরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য করে। আগের নির্বাচনগুলোতে আরবদের এতটা আগ্রহ না থাকলেও নেতানিয়াহুর অতি উগ্রডানপন্থি সরকারকে হটাতে এবার তারা দলে দলে ভোট দিয়েছেন।
এএইচ




