টানা তিন বছর ধরে ফিলিস্তিনের গাজায় ভয়াবহ গণহত্যা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। অবশেষে তিনি ক্ষমতা হারানোর দ্বারপ্রান্তে। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট।
যদিও অনুসন্ধানী সাংবাদিক, লেখক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা অ্যান্থনি লোয়েনস্টেইন আল জাজিরাকে বলেছেন, নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের মতাদর্শ ও চরিত্র একই। দুজনই ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ চান। এই ধারণার আওতায় পুরো ফিলিস্তিন, লেবানন, জর্ডান, সিরিয়া, সৌদি আরব ও মিসরের একাংশ অন্তর্ভুক্ত।
এই সাংবাদিক আরও বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় নেতানিয়াহু আরবদের প্রতি প্রকাশ্য বর্ণবাদী বক্তব্য দিয়েছেন। এক্ষেত্রে আইজেনকোটও অভিন্ন নন। তিনিও আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন।
তারপরও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাবাসীর প্রত্যাশা, নেতানিয়াহুর চেয়ে ‘কম শয়তান’ কেউ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হোক। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ক্ষমতাচ্যুত হোক- এটাই তারা চাইছেন মনে-প্রাণে।
সেক্ষেত্রে ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট ক্ষমতায় এলেও যে গাজার মানুষের প্রতি সহিংসতা কমবে না, সেটিও জানেন সেখানকার বাসিন্দারা। তবে তারা এখন চান, অন্তত নেতানিয়াহুর চেয়ে কম ক্ষতিকর কেউ ক্ষমতায় আসুক।
গাজার খান ইউনিসের বাসিন্দা আয়মান আহমেদ বার্তাসংস্থা এপিকে বলেছেন, ‘গাজা নিয়ে তাদের সব নীতিই রূঢ়। তবে আমরা দুই শয়তানের চেয়ে কম শয়তানকে বেছে নেব।’ তিনি চান আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হোক। কারণ তিনি গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে চুক্তি আছে, সেটিকে সমর্থন করেন।
ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া হামাস ও ইসরায়েলের এ চুক্তিতে বলা আছে— হামাস নিজেদের নিরস্ত্র করবে, গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত একটি সরকার গঠিত হবে। অপরদিকে দখলদার ইসরায়েল তাদের সব সেনাকে গাজা থেকে সরিয়ে নেবে। এরপর গাজা পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে।
কিন্তু ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সেই চুক্তিতে রাজি হলেও সেটি এখনো পর্যন্ত কার্যকর করতে দেননি।
এদিকে গাজার আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ আবেদ বলেন, আইজেনকোটের জয় গাজা পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন আনবে না। কারণ, নেতানিয়াহু এবং তার নীতির মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। ফলে শেষ পর্যন্ত গাজার পরিস্থিতি নেতানিয়াহুর শাসনামলের মতোই থাকতে পারে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয় ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ২৬তম নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে ইসরায়েলি আরব দলগুলো। তারা নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে ১৯টি আসনে জয় পেয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির অভিযোগ, নির্বাচনে আরব দলগুলো ‘চুরি’ করেছে। এ কারণে তারা এত আসন পেয়েছে।
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ আরব। কিন্তু তাদের ইহুদিরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য করে। আগের নির্বাচনগুলোতে আরবদের এতটা আগ্রহ না থাকলেও নেতানিয়াহুর অতি উগ্রডানপন্থি সরকারকে হটাতে এবার তারা দলে দলে ভোট দিয়েছেন।
তবে গাজাবাসী ও ইসরায়েলিরাসহ পুরো বিশ্বের চোখ আপাতত কে হতে যাচ্ছেন ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারপ্রধান। কিন্তু যে-ই আসুক, তাতে কি অসহায় ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য বদলাবে? গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা কি বন্ধ হবে? নানা প্রশ্ন, উত্তর অজানা।
এএইচ



