ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) একটি সাংস্কৃতিক ফোরামে যোগ দিতে পাকিস্তানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। গত বছরের মে মাসে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পর এটিই কোনো পাকিস্তানি মন্ত্রীকে ভারতের প্রথম এ ধরনের আমন্ত্রণ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে আগামী ২০ থেকে ২২ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এসসিও সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগ ফোরামে এসসিওর ১০ সদস্যদেশকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। এরই অংশ হিসেবে পাকিস্তানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটে। ২২ এপ্রিল ভারতশাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে এক হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে সামরিক অভিযান চালায়। পাকিস্তানও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয়। কয়েক দিনের সংঘাতের পর ১০ মে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের একজন মন্ত্রীকে দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানানোকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নয়; বরং এসসিওর সদস্যদেশগুলোর মধ্যে বহুপক্ষীয় সহযোগিতার অংশ।
এদিকে পাকিস্তান আমন্ত্রণ গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
পাকিস্তানের মন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে ২০২৩ সালের মে মাসের পর এটিই হবে কোনো পাকিস্তানি মন্ত্রীর ভারত সফর। সে সময় পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি গোয়ায় এসসিওর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, এসসিও সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগ ফোরামের লক্ষ্য সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো। ফোরামে প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং ঐতিহাসিক যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে এই সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে এসসিওর সরকারপ্রধানদের বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নয়াদিল্লিতে ফোরাম আয়োজনের ঘোষণা দেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এমএইচআর




