ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এরমধ্যে আরব ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো, যা দেশটির দখলদার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যেই তিনি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশটিতে ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশ যোগ্য ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে একই সময়ে ভোটদানের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশজুড়ে ৪০ লাখের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় খোলা হয় এবং রাত ১০টায় বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভোটারদের দীর্ঘ সারি থাকলে রাত ১০টার পরও সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্র খোলা রাখার কথা জানিয়েছে কমিশন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, তিন বছরের যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে ইসরায়েলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের উপস্থিতি বেশি।
প্রসঙ্গত, ইসরায়েলে আরব ভোটার বলতে মূলত দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়া স্থায়ী আরব অধিবাসীদের বোঝায়, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর যেসকল ফিলিস্তিনি আরব তাদের মূল ভূখণ্ডে থেকে যান এবং পরবর্তীতে ইসরায়েলের নাগরিকত্ব লাভ করেন তাদের ‘আরব ইসরায়েলি’ বা ‘ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক’ বলা হয়।
২০২৬ সালের নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরায়েলের মোট ভোটারের প্রায় ২২ শতাংশ আরব ভোটার রয়েছেন।
এদিকে ভোটার উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু ডানপন্থি সমর্থকদের দ্রুত ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আরব ও বামপন্থি এলাকাগুলোতে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিকুদের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তারা (আরবরা) আমাদের কাছ থেকে নির্বাচন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘নেগেভে ইহুদিদের চেয়ে আরব ভোটারদের উপস্থিতি বেশি। আপনাদেরও (ইহুদিদের) বের হতে হবে, ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। সমুদ্র সৈকতে নয়, কোনো বারবিকিউ পার্টি নয়। সবাই লিকুদকে ভোট দিতে বের হন।’
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর বিরোধী জোটগুলোও নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ব্যালট পেপার না পাওয়া, ব্যালট পেপার বিকৃত করা এবং আরব অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর ভোটকেন্দ্রে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে দলগুলো।
তবে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ব্যালট পেপারে পদ্ধতিগতভাবে কারচুপি বা ব্যাপক হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কমিশন বলেছে, অনিয়মের বিষয়ে পাওয়া পৃথক অভিযোগগুলো তাৎক্ষণিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিরোধী দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠন করা।
ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে পাঁচ লাখ মানুষ প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন, এবং অভাবনীয়ভাবে দেশটির ৭০ হাজার মানুষ কেবল ভোট দেওয়ার জন্য বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন।
শুক্রবার প্রকাশিত জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট প্রায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রয়েছেন।
কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন এ দুইজনের কোন রাজনৈতিক জোটই পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না। এর অর্থ হচ্ছে, সামনে কয়েক সপ্তাহ বা মাসব্যাপী রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলতে পারে দেশটিতে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
এমএইচআর




