আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ নতুন রেকর্ড করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যান। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, স্বর্ণের দাম বাড়লে বাংলাদেশের বাজারে প্রতি ভরির মূল্য ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ভারতের ব্যবসায়িক গণমাধ্যম লাইভমিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে প্রকাশিত জেপি মরগ্যানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম গড়ে ৬ হাজার ডলার এবং ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ৬ হাজার ৩০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস সত্যি হলে, ভারতের বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার রুপি হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম রেকর্ড ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৭৯ রুপিতে উঠেছিল। তবে এরপর দরপতন অব্যাহত থাকায় ২৭ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে দাম নেমে আসে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ রুপিতে।
এদিকে বাংলাদেশে ১ ভরি স্বর্ণের ওজন ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম। ভারতের বাজারের স্বর্ণের দামকে ২৭ অক্টোবরের কাছাকাছি বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করে সম্ভাব্য ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকার হিসাব করা হয়েছে।
তবে ডলারের বিনিময় হার ও স্থানীয় বাজারের অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিলে ভরিপ্রতি দাম কত হবে, তা নির্ভর করবে তখনকার বিনিময় হার ও স্থানীয় মূল্য নির্ধারণের ওপর। তাই ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকার অঙ্কটি মূলত একটি গাণিতিক ধারণা, যা বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারের জন্য কোনো সরাসরি পূর্বাভাস নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়, বিনিয়োগকারীদের চাহিদা এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়লে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে, যা স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। জেপি মরগ্যানও তাদের পূর্বাভাসে নিম্নমুখী ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে।
এদিকে শক্তিশালী ডলার ও মার্কিন ফেডের সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৫ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর ডেলিভারির স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪ ডলারে নেমে আসে।
মার্কিন ডলার দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করায় ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ বিদেশি মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এতে স্বর্ণের বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার বাংলাদেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা।
সূত্র: লাইভমিন্ট, রয়টার্স
এমএইচআর




