শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযানে ঘরছাড়া ২২০০ ফিলিস্তিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযানে ঘরছাড়া ২২০০ ফিলিস্তিনি
অভিযানে বহু বাড়িঘর ধ্বংসের পাশাপাশি শত শত দোকান, কারখানা ও সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, বাড়িঘর তল্লাশি ও উচ্ছেদ কার্যক্রমের কারণে প্রায় ২ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে আরও প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। 

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হেবরন শহরের কাছে একটি সামরিক চেকপয়েন্টে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং আরও ৩ জন আহত হয়। এই ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুরো পশ্চিম তীর লকডাউন করার এবং সেখানে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন।

হেবরনের মেয়র ইউসেফ আল-জাবারি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সৈন্যরা আল-জালদা এবং আইন দেইর বাহা এলাকা দুটিকে চারপাশ থেকে ঘেরাও করে ফেলে এবং বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করে। কিছু পরিবারকে অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়েছে। 

ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, আল-জালাদা ও আইন দেইর বাহা এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের খোঁজ এবং অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অভিযানের অংশ হিসেবে কিছু স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

হেবরনের ফারশ আল-হাওয়া এলাকায় প্রধান সড়ক ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
হেবরনের ফারশ আল-হাওয়া এলাকায় প্রধান সড়ক ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। 

হেবরনের পৌর কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে বহু বাড়িঘর ধ্বংসের পাশাপাশি শত শত দোকান, কারখানা ও সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

হেবরনের মেয়র ইউসুফ আল-জাবারি বলেছেন, উচ্ছেদ হওয়া মানুষের পাশাপাশি আরও প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষ তাদের বাড়ি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। 

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) অভিযোগ, হামলার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই—এমন বাসিন্দারাও অভিযানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অভিযানের পাশাপাশি পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও জনপদের প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এতে কর্মস্থলে যাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো এবং চিকিৎসাসেবা নেওয়ার মতো দৈনন্দিন কাজেও বাধা তৈরি হয়েছে। কিছু এলাকায় স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ করে দিয়ে ইসরায়েলি সেনারা।

এদিকে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাব জানিয়েছে, শুক্রবার ও শনিবারের অভিযানে পশ্চিম তীরের হেবরন, রামাল্লাহ, জেনিন ও নাবলুসসহ অন্তত ১৫টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। 

হেবরন-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি আন্দোলনকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইসা আমরু বলেছেন, প্রায় ৮ লাখ ফিলিস্তিনি এখন অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। সকাল থেকে শহরের সমস্ত প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের একটি বাড়ি গুড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
ফিলিস্তিনিদের একটি বাড়ি গুড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী

পশ্চিম তীরের শহর থেকে আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শহরের কেন্দ্রস্থলে চেকপয়েন্টগুলো বন্ধ করে দিয়ে প্রায় ১ হাজার ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের বাড়ির ভেতরে আটকে রেখেছে এবং তাদের বাইরে বের হতে বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

এরআগে শুক্রবার হেবরন শহরের কাছে ‘তেলেম’ ও ‘কিরিয়াত আরবা’ নামক অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সংযোগস্থলে একটি সামরিক চৌকিতে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী হামলা চালায়। গোলাগুলিতে ৫ জন ইসরায়েলি সেনা আহত হন, যাদের মধ্যে ২ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। 

হামলার পরপরই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পাল্টাগুলিতে ঘটনাস্থলেই দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী নিহত হন।

ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের দাবি, হামলাকারীদের গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও এম-১৬ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা বড় ধরনের কোনো হামলার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।

এই হামলার জন্য ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে দায়ী করেছেন এবং হামলার পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করারও ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

এদিকে সরাসরি এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও হামলাকারীদের প্রশংসা করে হামাস এটিকে গাজা যুদ্ধ ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযানের বিরুদ্ধে একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স


এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর