বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বৈঠকের ইঙ্গিতের মধ্যেই ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। মার্সেই ও লিওঁ শহরে আজ শনি ও রোববার সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধও বাড়ানো হয়েছে।
রাজধানী প্যারিসে আংশিক কারফিউর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আজ ল্যুভ, ওর্সে ও পিকাসো জাদুঘরও বন্ধ থাকবে। বিক্ষোভ ঘিরে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানী প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ। তিনি জানান, বিক্ষোভের শুরু থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সহিংসতা ও লুটপাটের উসকানি ছড়ানো হচ্ছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে দেশজুড়ে এই নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় ম্যাক্রোঁ তার শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে ডিফেন্স কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক করেছেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চলতি মাসের শেষে নাইজেরিয়া ও সেনেগালে নির্ধারিত তার আফ্রিকান সফরও স্থগিত করেছেন প্রেসিডেন্ট।
এ ছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবকাঠামোগত সমস্যা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপদ্ধতি সংস্কারের দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ম্যাক্রোঁর।
জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে গত সপ্তাহে ফ্রান্সজুড়ে বড় বিক্ষোভ হয়। এসব বিক্ষোভের একপর্যায়ে দাঙ্গা, ভাঙচুর ও লুটপাট ছড়িয়ে পড়ে। ওই সহিংসতায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে ফ্রান্সের আজকের (গতকাল) বিক্ষোভ ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং প্যারিসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
গত বৃহস্পতিবার প্যারিসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ফ্রান্সে সহিংসতা ও অস্থিরতার ঘটনা ঘটেছে এবং এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফ্রান্সের সরকার ‘অবৈধ’ বিক্ষোভ দমনে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে শ্রমিক সংগঠনের মতো গোষ্ঠীগুলোর আয়োজিত সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় বিক্ষোভ ও অস্থিরতাপূর্ণ এলাকা ফ্রান্সে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোববার ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) খেলা দেখার বিষয়ে প্যারিসে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও সতর্ক এবং আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ফ্রান্সের যেসব এলাকায় পুরোপুরি বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়নি, সেখানে আজ শনিবার শুধু অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
ফ্রান্সের বিচারবিষয়ক মন্ত্রী জেরাল্ড ডার্মানান বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ২১৭ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ফ্রান্সজুড়ে দুই হাজার ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার এবং এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। লে ফিগারো পত্রিকার বরাতে তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের অর্ধেকেরই অপরাধের কোনো রেকর্ড আগে ছিল না।
প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, গত সপ্তাহের বিক্ষোভকারীরা যে প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন, সেখানে এবং লে আল শপিং এলাকায় সোমবার পর্যন্ত কারফিউ বাড়ানো হবে।
রাজধানীর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত এই দুই এলাকায় চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ ও প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লোকর্নুর নির্দেশে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এআরএম




