বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

শান্তি আলোচনার উদ্যোগের মধ্যেই কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম

শেয়ার করুন:

শান্তি আলোচনার উদ্যোগের মধ্যেই কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। ছবি সংগৃহীত।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা শুরুর নতুন উদ্যোগের মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মস্কো। বুধবার রাতে চালানো এ হামলায় কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। এর কয়েক ঘণ্টা আগে রাশিয়া শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে নীতিগতভাবে প্রস্তুত বলে জানিয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে দুই পক্ষ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

বুধবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এর আগে মঙ্গলবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত।

শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে উইটকফের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ঠিক কী কী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

পুতিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, আগামী ১০ নভেম্বরের দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে নতুন দফার আলোচনা হতে পারে। তার ভাষ্য, সংঘাতের অবসানের পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের জন্য একটি নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলাই আলোচনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তবে আলোচনায় উত্থাপিত কিছু প্রস্তাবকে খুব একটা কার্যকর বলে মনে করেননি উশাকভ।

২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড মস্কোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

রাশিয়ার দাবি, তাদের সেনারা পুরো যুদ্ধফ্রন্টে অগ্রসর হচ্ছে এবং কৌশলগত উদ্যোগ তাদের হাতে। তবে ইউক্রেন ও ইউরোপের মিত্ররা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলছে, যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যত অচলাবস্থা চলছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, বর্তমান যুদ্ধফ্রন্টের অবস্থান অনুযায়ী যুদ্ধ স্থগিত রাখার কোনো চুক্তি হলে তিনি তাতে রাজি আছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধবিরতি বা হত্যাকাণ্ড বন্ধ করাই এখন ইউক্রেনের ন্যূনতম প্রত্যাশা। যুদ্ধ থামানোর পর ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

সাম্প্রতিক আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন উইটকফ। ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে আলোচনায় অংশ নেওয়া জ্যারেড কুশনার বলেন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এখনো অনেক কাজ বাকি। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কে টানাপোড়েন

শান্তি আলোচনার উদ্যোগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কে মতবিরোধ বাড়ছে।

ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় হয়েছে। ইউক্রেনের পক্ষে আলোচনার দায়িত্ব অন্য কারও নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প।

রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। ওই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়া বিপুল পরিমাণ ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের সুযোগ পেয়েছে। অথচ এর কয়েক সপ্তাহ আগেই রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের অনুমোদন দিয়ে একটি আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। তার এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি ও ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা।

গত সপ্তাহে ইউক্রেন অভিযোগ করে, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে আগাম সতর্ক করতে প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে বহু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে দাবি করে কিয়েভ।

তবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ অভিযোগকে ‘কলঙ্কজনক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। পরে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এখন কার্যকর রয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকে গতির সীমাবদ্ধতার কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ড্রোন ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অবশ্য এ ধরনের গতি কমানোর অনুরোধ জানানোর কথা অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জরুরি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন দুই দলের একদল মার্কিন সিনেটর। সূত্র: বিবিসি।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর