ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অদ্ভুত এক স্লোগান নিয়ে আলোচনা চলছে। ‘Bismillah, c’est les ténèbres’ বা ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’— কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি ফরাসি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পরিচিত স্লোগানে পরিণত হয়েছে।
ইউরোনিউজের প্রতিবেদন বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ন্যাপচ্যাট বার্তা থেকে এই স্লোগানের শুরু। পরে স্কুল অবরোধের সময় শত শত প্ল্যাকার্ডে স্লোগানটি দেখা গেছে। ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতেও এটি ছড়িয়ে পড়ে। সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও স্লোগানটি ব্যবহার করেছেন।
স্লোগানটির অর্থ কী?
‘বিসমিল্লাহ’ আরবি শব্দ। এর অর্থ ‘আল্লাহর নামে’। ফরাসি তরুণদের কথ্য ভাষায় শব্দটি কখনো ‘চলো’ বা ‘শুরু করা যাক’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, ‘সে লে তেনেব্র’ অর্থ ‘এ এক অন্ধকার’। কথ্য ভাষায় এটি ভয়াবহ বা হতাশাজনক পরিস্থিতি বোঝায়।
আরবি ও ফরাসি ভাষার মিশ্রণে তৈরি দুটি অংশ একসঙ্গে জুড়ে বাক্যটি অস্বাভাবিক শোনায় এবং এর কোনো অর্থ স্পষ্ট নয়।
ইউরোনিউজ জানিয়েছে, অক্টোবরের শুরুতে স্ন্যাপচ্যাটে একটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের আয়োজকেরা একটি ব্যক্তিগত চ্যাটরুমে আলোচনা করতেন। সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে ‘মামাদু’ নামের এক ব্যক্তি বাক্যাংশটি ব্যবহার করেন।
সেখানে ‘মামাদু’ লেখেন, ‘হ্যালো, বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র!। অবরোধ কখন, ওয়াল্লাহ ভাই?, আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’
বার্তার সঙ্গে ছিল আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি। অন্য কিছু স্ক্রিনশটে একই ধরনের অ্যাকাউন্ট থেকে স্কুল অবরোধের স্থান এবং আতশবাজি ও ধোঁয়া তৈরির সরঞ্জাম কোথায় পাওয়া যায়, তা জানতে চাওয়া হয়।
এসব দেখে শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হয়, কেউ কিশোর সেজে তাদের ব্যক্তিগত গ্রুপে ঢোকার চেষ্টা করছেন। তাদের ধারণা, ওই ব্যক্তি পুলিশ সদস্য হতে পারেন।
তবে বাক্যাংশটি অন্য স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারীদের কাছে মজার মনে হয়। তারা বার্তাগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বের ক্রেতেই শহরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা দেশের অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লাসের সময় দীর্ঘ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর চাপ বেশি, স্কুল ভবন জরাজীর্ণ এবং শিক্ষকও নিয়মিত পাওয়া যায় না। এসব সমস্যায় শ্রমজীবী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর এলাকার স্কুলগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তাদের দাবি।

ফ্রান্স ছাড়িয়ে অন্য দেশেও স্লোগানটি
স্লোগানটি ফ্রান্সের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। ইতালির বার্তা সংস্থা আনসার বরাতে ইউরোনিউজ জানায়, ১৩ অক্টোবর সেইন-সাঁ-দেনি এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করার সময় গ্রেটা থুনবার্গ স্লোগানটি ব্যবহার করেন।
৯ অক্টোবর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিক্ষোভে স্লোগানটি লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেখানে এটি ফরাসি শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতির প্রকাশ ছিল। ইতালির বোলোনিয়ায় ১৫ অক্টোবর এবং মিলানে ১৭ ও ১৮ অক্টোবরের বিক্ষোভেও স্লোগানটি দেখা যায়। বার্লিনের একটি ফরাসি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এটি লেখা ব্যানার হাতে দাঁড়িয়েছিলেন।
অদ্ভুত এই স্লোগান তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে মূলত এর অস্বাভাবিক ভাষা ও উৎপত্তির গল্প ঘিরে। তবে এর পেছনে পুলিশি অনুপ্রবেশ ছিল কি না, তা এখনো অজানা।
সূত্র: ইউরোনিউজ
এমএইচআর




