মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

বিএনপি সরকার গঠনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি: যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

বিএনপি সরকার গঠনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি: যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্থিতিশীল হয়েছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত বাংলাদেশবিষয়ক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর।

‘রিপোর্ট অব এ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি দেশটির কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিম (সিপিআইটি) প্রস্তুত করেছে।

প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য গত ৭ থেকে ১৫ জুন বাংলাদেশ সফর করেন সিপিআইটি-এর তিন কর্মকর্তা। তারা রাজনৈতিক দল, পুলিশ, মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক, গবেষক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। এসব সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা হয়েছে।

uk

প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল হয়েছে। তবে দুর্নীতি, পুলিশের জবাবদিহি, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং ব্যাপক সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর বলছে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ এবং আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম সহিংস বলে বর্ণনা করেছেন বিভিন্ন সূত্র। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাও কমেছে। তবে রাজনৈতিক সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, যদিও এসব ঘটনার অধিকাংশই স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে ঘটছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো এখন মত প্রকাশ, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও জনপরিসরে বিতর্কে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাচ্ছে।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সংগঠিত হওয়া, প্রচার চালানো, বিক্ষোভ করা এবং সরকারের সমালোচনা করতে পারছে। তবে ক্ষমতায় থাকাকালীন সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানকে ঘিরে সৃষ্ট ঘটনাবলীর কারণে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও দলটির নেতা ও সমর্থকদের মধ্যে যারা দুর্নীতি, সহিংসতা বা দমন-পীড়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তাদের অনেকে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করতে পারছেন। তবে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বক্তব্য দিলে তাদের কেউ কেউ হয়রানি, সামাজিক বিরূপতা বা সহিংসতার মুখে পড়তে পারেন।

এদিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি সত্ত্বেও দুর্নীতি, পুলিশের জবাবদিহি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দফতর। 

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত ২১ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঐতিহাসিক মামলাগুলোর পর্যালোচনাও চলমান রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়ের হওয়া রাজনৈতিক মামলাগুলোর একটি বড় অংশ প্রত্যাহার করা হলেও দলটির বহু নেতা, কর্মী ও সাবেক কর্মকর্তা এখনো ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনের সময় সংঘটিত কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সাধারণ আদালতে বিচার চলছে। এসব মামলায় দলটির কয়েকজন নেতা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, আবার অনেকে বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে আটক রয়েছেন।

সূত্র: ইউকে হোম অফিস


এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর