সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

৫ লাখ ফিলিস্তিনির খাদ্যসহায়তা বন্ধ করছে জাতিসংঘ, দুর্ভিক্ষের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

অর্থসংকটে গাজায় ৫ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তা বন্ধ করছে জাতিসংঘ

অর্থায়নের ঘাটতির কারণে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। এ পরিস্থিতিতে গাজায় দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, অর্থসংকটের কারণে গাজায় তাদের মাসিক খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা ১৬ লাখ থেকে কমিয়ে ১১ লাখে নামিয়ে আনা হচ্ছে। অর্থাৎ, সহায়তা পাওয়া প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এ কর্মসূচির বাইরে চলে যাবেন। 

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, সহায়তা কমানোর পাশাপাশি পরিবারপ্রতি খাদ্যসামগ্রীর পরিমাণও অর্ধেক করা হয়েছে। আগে একটি পরিবার দুটি খাদ্যপ্যাকেট পেত, এখন পাচ্ছে একটি। গমের আটার পরিমাণও কমানো হয়েছে। 

এছাড়া প্রতিদিন রান্না করা খাবার বিতরণের পরিমাণ আড়াই লাখ থেকে কমিয়ে দেড় লাখে নামানো হয়েছে। দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী কিছু পরিবার এখন প্রতিদিনের পরিবর্তে এক দিন পরপর রান্না করা খাবার পাবে। ৭৫ হাজার পরিবারের নগদ সহায়তার পরিমাণও কমানো হয়েছে। 

GAZA

ডব্লিউএফপির হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৭ শতাংশ—তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় দুই লাখ মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্যসংকটে রয়েছে। এই পর্যায়ে ক্ষুধাজনিত মৃত্যু ঠেকাতে অবিলম্বে খাদ্যসহায়তা প্রয়োজন। 

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, গাজার ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ বেকার। ফলে বাজারে খাবার পাওয়া গেলেও বহু পরিবারের পক্ষে তা কেনা সম্ভব হচ্ছে না। শিশুদের পুষ্টির অবস্থাও উদ্বেগজনক; মাত্র প্রতি পাঁচ শিশুর একজন পর্যাপ্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার পাচ্ছে। 

ডব্লিউএফপির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ বলেছেন, গাজায় মানুষের জীবন এখনো অত্যন্ত কঠিন। পর্যাপ্ত আশ্রয়, মৌলিক পরিষেবা ও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। শীত সামনে থাকায় সহায়তা কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলতে পারে। 

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে আগামী ছয় মাসের জরুরি কার্যক্রম চালু রাখতে তাদের ৪৫০ মিলিয়ন ডলার বা ৪৫ কোটি ডলার প্রয়োজন। ২০২৬ সালে ফিলিস্তিনে সংস্থাটির কার্যক্রমের জন্য পাওয়া অর্থ আগের বছরগুলোর তুলনায় অর্ধেকেরও কম। 

সংস্থাটি সতর্ক করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে সামান্য উন্নতি হয়েছে, তা অত্যন্ত নাজুক। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতির আবার অবনতি ঘটতে পারে।

এদিকে গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত সরকারি মিডিয়া অফিস টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে ডব্লিউএফপির সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্তকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে আখ্যা দিয়েছে। 

বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত উপত্যকাটিতে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি ভিত্তিতে তহবিল ও মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে কার্যালয়টি। 

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই উপত্যকাটিতে পণ্য ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের ওপর ইসরায়েল কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে।  এর ফলে গাজার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা চলমান খাদ্য সংকটকে একটি মানবিক বিপর্যয়ে রূপ দিয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর