সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

রাশিয়ায় ইউক্রেনের শক্তিশালী ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩ এএম

শেয়ার করুন:

রাশিয়ায় ইউক্রেনের শক্তিশালী ড্রোন হামলা

সংঘাত শুরুর পর থেকে আকাশপথে অন্যতম বৃহৎ হামলার অংশ হিসেবে রবিবার রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ১,০০০টিরও বেশি ড্রোন ছুড়েছে ইউক্রেন। এই ভয়াবহ হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল ও তেল ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসনিক প্রধান আলেকজান্ডার বেগলোভ জানান, হামলায় ১ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৫ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম 'ওজন'-এর লজিস্টিক সেন্টার ও টেক জায়ান্ট 'ভিকে'-র ডেটা সেন্টারেও আঘাত হেনেছে ইউক্রেনীয় ড্রোন।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ক্রিমিয়া ও কৃষ্ণসাগরসহ ১৫টি অঞ্চলে ১,০১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন গুলি করে ধ্বংস করেছে। এই ঘটনার জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের এই উসকানির বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত ও বৃহৎ আকারের পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের জাপোরিজিয়া শহরে রুশ হামলায় একজন নারী নিহত ও ৬ বছরের শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

গত ১১ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি "জ্বালানি যুদ্ধবিরতি" চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ তুলেছেন যে, এই ঘোষণার পর এক সপ্তাহেই রাশিয়া ইউক্রেনের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ৭৬ বার আঘাত হেনেছে, যার ফলে হাজার হাজার পরিবার এখন বিদ্যুৎহীন।

এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও তেলের ঊর্ধ্বমুখী দর নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটনে বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি 'গ্রাহাম অ্যাক্ট'-এর অধীনে রাশিয়ার ওপর আরোপিত শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। 

পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম কমাতে রাশিয়া থেকে ৩ লাখ টনেরও বেশি ডিজেল আমদানির একটি চুক্তিকে সমর্থন করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারা। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন ছাড়ের এই সিদ্ধান্ত রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে আরও সাহসী করে তুলবে এবং যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করবে।

ইউক্রেনীয় ড্রোনের গতি ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি হলে স্যাটেলাইট সিগন্যাল ধীর হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন জেলেনস্কি। এই অভিযোগ নাকচ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, হোয়াইট হাউস থেকে সিগন্যাল কমানোর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে রাশিয়ার গভীরে নিখুঁত আঘাত হানার জন্য স্পেসএক্সের সাময়িক সামরিক সংস্করণ 'স্টারশিল্ড' ব্যবহারের যে অনুরোধ ইউক্রেন জানিয়েছে, তা বর্তমানে ওয়াশিংটনে আলোচনার অধীনে রয়েছে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর