শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

লেবাননে গোপন অভিযান চালিয়ে সাবেক মিলিশিয়া কমান্ডারকে ধরে আনল সিরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ এএম

শেয়ার করুন:

লেবাননে গোপন অভিযান চালিয়ে সাবেক মিলিশিয়া কমান্ডারকে ধরে আনল সিরিয়া

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক মিলিশিয়া কমান্ডার আলী কায়ালিকে লেবানন থেকে আটক করে সিরিয়ায় নিয়ে গেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে সিরিয়ার উপকূলীয় এলাকায় কয়েকশ বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ তাকে সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টার সময় আটক করেছে। তবে কোথায় এবং কোন সীমান্ত দিয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

তবে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের বরাতে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, ‘বানিয়াসের কসাই’ খ্যাত কায়ালিকে লেবাননের মানসুরিয়েহ এলাকায় নিজের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে আটক করেন। 

লেবাননের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কায়ালিকে কীভাবে লেবানন থেকে সিরিয়ায় নেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাকে বৈরুতের বাইরে অবস্থিত সিরীয় দূতাবাসে নেওয়া হয়েছিল কি না, নাকি সরাসরি সিরিয়ায় পাঠানো হয়েছে, তা নির্ধারণে টেলিযোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সিরিয়ার এক নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, কায়ালিকে আটকের অভিযান লেবাননের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছিল। এ অভিযানে সহায়তা করে তুরস্কের গোয়েন্দারা। 

মিহরাক উরাল নামেও পরিচিত আলী কায়ালি তুরস্কে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি সিরিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং বাশার আল আসাদের শাসনামলে সরকারপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। 

সিরীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কায়ালি ‘সিরিয়ান রেজিস্ট্যান্স’ নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যারা ২০১৩ সালের মে মাসে সিরিয়ার উপকূলীয় তারতুস প্রদেশের সুন্নি অধ্যুষিত শহর বায়দা ও বানিয়াস এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল।

সিরিয়ার মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নথি অনুযায়ী, ওই দুটি শহরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। এতে কমপক্ষে ২৪৮ জন প্রাণ হারান। 

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল আসাদের সরকারের পতনের পর সাবেক সরকারের সামরিক কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সদস্য ও মিলিশিয়া নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ। সাবেক সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই বাশার আল-আসাদের পরিবারের একাধিক সদস্য ও সহযোগীকে আটক এবং শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: এপি, ইউরো নিউজ


এমএইচআর

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর